কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক নারীকে তার বাবার বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি রাসেল (২৯) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ জুন) দিবাগত মধ্যরাত আনুমানিক তিনটার সময় নোয়াখালী সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নোয়াখালী সদর এলাকার ৩নং নোয়াইন্ন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাধেরহাট এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে ও সৌদি আরব প্রবাসী।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল ১০টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত বুড়িচং থানাধীন বলারামপুর গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, অভিযুক্ত রাসেল একজন সৌদি আরব প্রবাসী। এক বছর আগে তার সাথে ওই নারীর ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। তারপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয় এবং বিয়ের কথা ফাইনাল হয়। কিন্তু অভিযুক্ত রাসেল সৌদি আরব থেকে দেশে আসতে না পারায় ওই নারীকে তার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। অন্যদিকে এসময়ে একাধীক জায়গা থেকে ওই নারীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন অভিযুক্ত রাসেলের জন্য। পরে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে অভিযুক্ত রাসেল ওই নারীকে ফোনে জানান তার সাথে দেখা করতে কুমিল্লা শহরে এসেছেন তিনি।
এতে ওই নারী দেখা করতে অনিহা প্রকাশ করলে ওই যুবক ওই নারীর বাসায় যায় এবং পরিবারের সবার সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে ওই নারীর সাথে একক ভাবে কথা বলবে বলে রুমের ভিতরে গিয়ে আগামী রবিবার তাকে বিয়ে করবে মর্মে তাকে অভয় দেয়। পরে তাকে জরিয়ে ধরে পোষাক খুলতে চেষ্টা করলে ওই নারী চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে অভিযুক্ত রাসেল তখন তার মুখ চেপে ধরেন এবং ওই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে অভিযুক্ত রাসেল চলে যাওয়ার সময় ওই নারীকে দুইদিন পরে (রবিবার) কুমিল্লায় এসে বিয়ে করে পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে যাবেন বলে অভয় দিয়ে যান। কিন্তু ওই দিন তার সাথে একাধীকবার যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফোনটি বন্ধ করে দেন সে।
পরে ২৪ জুন (মঙ্গলবার) ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযুক্ত সেই রাসেলের বাসায় গেলে স্থানীয় ভূইয়া নামে এক ইউপি সদস্য রাসেলের পক্ষ নিয়ে তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি দেন এবং বিষয়টি নিয়ে পরে সমাধান দেবেন বলে তিনি ওই নারীকে তখন এলাকা ছাড়া করেন। পরে ওই ইউপি সদস্য ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিবারের একজনকে জানান, আমি ৮ বার জেল খেটেছি। আমার ভাই সেনাবাহিনীর অফিসার। আমার সাথে কোন ধরণের চালাকি করবেন না। আমি চাইলে অনেক কিছু করতে পারি। যত দ্রুত সম্ভব দেখেন কি করে সমাধান করা যায়। আর আমাকে যদি এ নিয়ে জেল খাটতে হয় তাহলে মজাটা বুঝতে পারবেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বাধ্য হয়ে ওই নারী অভিযুক্ত রাসেলকে বিবাদী করে বুড়িচং থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। পরে শুক্রবার (২৮ জুন) দিবাগত মধ্যরাত আনুমানিক তিনটার সময় নোয়াখালী সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুড়িচং থানা পুলিশ।
এদিকে রবিবার (২৯ জুন) অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেই ইউপি সদস্য ভুইয়াকে সকালে টাইমস নিউজ ফোন দিলে তিনি কোটে আছেন, কাজ শেষ করে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে বিকেল ৫টা পার হলেও তাকে একাধীক বার ফোন দিলেও আর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বুড়িচং থানার সেকেন্ড অফিসার রাকিবুল ইসলাম টাইমস নিউজকে জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর অভিযুক্তকে নোয়াখালী সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আর এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক টাইমস নিউজকে জানান, ভুক্তভোগী নারী থানায় এজাহার দিয়েছেন, আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।