1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

চান্দিনায় মুচলেকা নিয়েও ঠেকানো গেল না ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীর বাল্য বিবাহ!

টাইমস প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০২৫
  • ২৪৩ বার পঠিত

কুমিল্লার চান্দিনায় প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়েও ঠেকানো গেল না ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মুন্নি খাতুন (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর বাল্য বিবাহ। উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের ভাকসার গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ মোস্তফা ও তাসলিমা বেগমের মেয়ে ও রামমোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্নি খাতুনের সাথে কুমিল্লা সদরের বলারামপুর এলাকার জৈনিক এক ছেলের সাথে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে ছেলে পক্ষের ৬০ জন ও মেয়ে পক্ষের শতাধীক মেহেমান নিয়ে অন্তত ১৫০ জনের আয়োজন করে মেয়ে পক্ষ।

‎এবিষয়ে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম-কে মুঠোফোনে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে সংশিষ্ট ইউএনওকে জানাতে বলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল হককে মুঠোফোনে বাল্য বিবাহের বিষয়টি জানানো হলে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুরকে ব্যবস্থা নিতে বেলা আনুমানিক পৌনে ১১টার সময় নির্দেশ দেন।

ইউএনওর নির্দেশ পাওয়ার পৌনে দুই ঘণ্টা পরেও ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুরকে বেলা সাড়ে ১২টার সময় ফোন দেওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান- এটা তো আমি গত কালকেই স্টপ করেছি। বাল্যবিবাহের কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে জানালে তিনি বলেন- আমি মেম্বারকে এবং গ্রাম পুলিশকে পাঠিয়েছি। যেগুলো খাবার রেডি করেছে, সেগুলো সবাইকে খাওয়াতে বলেছি, বাট বিয়ে যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করে রাখছি। বর পক্ষের কেউ আসলে আমাকে জানাতে বলেছি। বর পক্ষ আসলে আমি যাবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান- স্থানীয় মেম্বার ও গ্রাম পুলিশের দুই সদস্য সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মেয়ে পক্ষের বাসায় আসে। এরপর মেয়ের আপন ফুফি রুনু বেগম গ্রাম পুলিশের কালু নামে এক সদস্যকে ঢেকে আড়ালে নিয়ে যায়। এরপর তাদের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। এরপর এক পর্যায়ে কালু নামে সেই গ্রাম পুলিশ মেম্বারকে আসতে বলেন এবং আরও কিছুক্ষণ তাদের মাঝে কথা হয়। এরপর মেয়ের ফুফি রুনু বেগম ঘরে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা এনে সেই কালু নামে গ্রাম পুলিশকে দেন। এতে ওই পুলিশ সদস্য রুনু বেগমকে জানান যে- চালিয়ে যান, তবে বিয়ের গেইট ও প্যান্ডেল খুলে ফেলেন। আর মেম্বার বলেন- মেয়েকে ছেলের বাসায় পাঠিয়ে দেন, সেখানে কাজি অফিসে নিয়া গিয়া বিয়া পড়ায়ে দেন।

উপস্থিত কয়েকজন আরও জানান- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুর বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় মেম্বারকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে মেম্বার জানান- এখানে বিয়ে হয় না, আখিকা হয়। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সন্দেহ হলে তিনি দুপুরে মেয়ে পক্ষের বাসায় গিয়ে মেয়ে পরিবারের থেকে মুচলেকা নিয়ে যান। এরপর বিকেল অনুমান ৫টার সময় ছেলেসহ সেই পক্ষের কয়েকজন লোক মেয়ে পক্ষের বাসায় আসেন এবং মেয়েকে তাদের সঙ্গে করে নিয়া যায়। পরে ৬টার সময় কুমিল্লা সদরের বলারামপুর এলাকায় দুই পরিবারের উপস্থিতিতে কাজী অফিসে এই বাল্য বিবাহ সম্পন্ন হয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর