নওগাঁয় সন্ত্রাস, মাদক কারবারি ও অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর কঠোর অ্যাকশন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া চিহ্নিত সন্ত্রাসী বা অপরাধী, অস্ত্রবাজ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাকারীদের ধরতে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে নওগাঁর অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প। এতে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও বিভিন্ন অপরাধীদের অনেকেই গাঁ-ঢাকা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে নওগাঁতে শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ বেশ কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যাবসায়িকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। ফলে অনেকে সেনা অভিযান টের পেয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। কেউ কেউ ছদ্মবেশ ধারণ করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছে। কেউ কেউ আবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে একের পর এক চিহ্নিত ভয়ানক সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরছে কিছুটা স্বস্তি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে। অপরাধ প্রসঙ্গে এক জন রাজনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি অপরাধ দমনেও তারা পরীক্ষিত বা দক্ষ। কোথায় কীভাবে কী করতে হবে, তা উচ্চ প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী ভালোভাবেই জানে। কাজেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, কিশোরগ্যাং এবং যারা সমাজকে অরাজকতার দিকে নিয়ে যাবে, তাদের জন্য সেনাবাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ সাধারণ মানুষের ভরসার প্রধান জায়গায় রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। সোমবার (২ জুন) বেলা ১২ টায় কথা হয় হাট নওগাঁ বাসিন্দা আকরাম হোসেন এর সাথে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের বিষয়টি খুব ভালো ব্যাপার। যেখানে মাঝখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা খারাপ দেখছিলাম, তবে চিহ্নিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মনে সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযান এক ধরনের স্বস্তি এনেছে। এ ছাড়া সামনে ঈদুল আজহায় অনেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে গ্রামে ফিরবেন নিরাপত্তা বা চলাফেরায় যে ঝুঁকি আমাদের উদ্বেগ বাড়ায়, সেখানে সেনাবাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ বা সাঁড়াশি অভিযানকে সাধারণ মানুষ খুবই ভালোভাবে নিচ্ছেন। এছাড়াও কথা হয় একজন রিকশাচালকের সঙ্গে। রিক্সা চালক মিঠুন মিয়া বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘মামা, আমরা গরিব মানুষ, হয়তো আমাদের কথার দাম নাই। কিন্তু আমরাও অনেক কিছু বুঝি। দিন-রাত বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করি, বিভিন্ন মহল্লায় যেতে হয়। যেসব ঘটনা দেখি বা শুনি তাতে অনেক সময় ভয়ও লাগে। তবে সেনাবাহিনী যখন বেশি অ্যাকশনে থাকে, তখন আমরা শান্তিতে থাকি, আর ভয় লাগে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী, মব সৃষ্টিকারী ও ডাকাত-ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানত এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র্যাবসহ অন্য সংস্থাগুলো। সেনা অভিযানে নওগাঁতে গত এক মাসে বিভিন্ন অপরাধে ২৭ জন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী (সন্ত্রাসী), অপহরণকারী, চোরাচালানকারী, প্রতারক, দালাল চক্র, চাঁদাবাজ, ডাকাত, ছিনতাইকারী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।’
<span;>