কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সালিশী বৈঠক শেষে শাকিল আহমেদ (২৯) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আর শনিবার (১৭মে) এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে এজাহারভুক্ত ১৩ জনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বরকোটা এলাকার নেকবর আলীর ছেলে জাকির মিয়া (৩৫) ও জাকির মোল্লার দুই ছেলে মোহাম্মদ হাফিজ (২৫) এবং মোহাম্মদ সাদ্দাম মিয়া (২৩) এবং নেকবর আলীর ছেলে জাকির মিয়া (৩৫)। নিহত শাকিল বিটেশ্বর গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালকের দ্বন্ধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকালে ইউনিয়ন পরিষদে উভয়কে নিয়ে বৈঠকে বসেন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান।
হাবিবুর রহমান জানান, বরকোটা এলাকার মোটরসাইকেল চালক এবং বিটেশ্বর এলাকার সিএনজি চালকের মধ্যে গত বুধবার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার বিষয়টি নিয়ে আজকে আমরা সালিশ করি। সালিশে উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিএনজি চালকের চিকিৎসা বাবদ মোটরসাইকেল চালককে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হলে তা মেনে নিয়ে এক হাজার টাকা জমা দেয়। দু’দিন পর বাকি টাকা পরিশোধ করবে বলে সালিশ দরবার সমাপ্ত করে সন্ধ্যায় আমরা চলে যাই। এরপর শুনি মারামারি হয়েছে। শাকিল নামে বিটেশ্বর গ্রামের একজনকে আহত অবস্থায় গৌরীপুর হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরে শুনি ঢাকা নেয়ার পথে নাকি মারা গেছে।
নিহত শাকিলের ফুফাতো ভাই আকাশ বলেন, শাকিল বিটেস্বর বাজারে কসাইয়ের কাজ করতো। তার চাচাত ভাইয়ের সিএনজি নিয়ে দরবার হয়েছে। দরবার শেষে বরকোটার কয়েকজন গালাগালি করতেছিল, তখন শাকিল তাদেরকে বলে “দরবারে যা হয়েছে সবাই মানছে, এখন গালাগালি করে কি হবে”। এটা বলার কারণে কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারে এবং তার বুকে ছুরি দিয়ে জখম করে। পরে ঢাকায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে পথেই মারা যায়।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বিটেশ্বর এলাকায় সালিশি বৈঠক শেষে মারামারির ঘটনায় শাকিল নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এজাহার নামীয় তিন আসামিকে গ্রেফতার করা করেছে। আর বাকি আসামিদেরকেও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।