নওগাঁর মান্দায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় বিএনপি ও যুবদলের ৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ১নং ভারশোঁ ইউনিয়নের আইওরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- আইওরপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলী প্রামানিকের ছেলে ও ভারশোঁ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাকলাইন চারু (৫৫), মৃত আব্দুর রহিম মন্ডলের ছেলে ও ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান (৫৫), মৃত কেফাতুল্লাহর ছেলে ও ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন (৩৮), মৃত দশতুল্লাহর ছেলে যুূবদল নেতা বল্লেক কাগজি (৪৫), মৃত আব্দুল গফুর সরকারের ছেলে কাবিল সরকার (৫০) এবং সাইফুদ্দিন সরকারের ছেলে সোহেল সরকার (৩৬)।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নিতে হসপিটালে যান মান্দা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন মান্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন টুকু, ভারশোঁ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী কাবুল এবং মান্দা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ রানা প্রমূখ। এর আগে বুধবার রাতে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান মকে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু, কুসুম্বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম মোর্শেদ চৌধুরী এবং মান্দা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল জলিল প্রমূখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকদলের সদস্য ফজলুর রহমান বাবু, মান্দা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক সিদ্দিক হোসেন, মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শহিদুজ্জামান সালেক এবং ভারশো ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমূখ।
স্থানীয়রা জানান, আইওরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন এলাকায় একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে মান্দা এবং নিয়ামতপুর উপজেলার সীমন্তবর্তী গ্রামবাসীদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে পার্শ্ববর্তী নিয়ামতপুর উপজেলার ৮নং বাহাদুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা চকগোপাল গ্রামের প্রতিপক্ষ সাবেক ইউ’পি সদস্য আব্দুল খালেক রজনী, সিরাজুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, মিনহাজুল ইসলাম, সেলিম, মামুন, আওয়াল, মামুন লালু এবং মান্দা উপজেলার আইওরপাড়া গ্রামের রমজান, রাসেল, গুলজাহান গংরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে -সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের ৬ নেতাকর্মী আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। সেখানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন আহতরা। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে প্রতিপক্ষের লোকজন পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।