কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় মসজিদের এক ইমামের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষপাতিত্ব করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
ঘটনার ১৩ দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নানা নাটকীয়তার মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সাংবাদিকরা বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের “নিউজ না করার” শর্তে মামলা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর হোমনা থানায় মামলা রুজু করা হলেও, এক মাস পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, অভিযুক্তরা মামলার বাদীকে নিয়মিত ফোনে হুমকি ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হোমনা উপজেলার ৭নং ভাষানিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ও আসাদপুর এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে মিজান মিয়ার সঙ্গে প্রায় নয় মাস আগে স্থানীয় এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় বছর ধরে মসজিদে ইমামতি করতেন মিজান মিয়া এবং তিনি মসজিদের পাশের একটি কক্ষে বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রথমে এক শিশুর মাধ্যমে মিজান মিয়া ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে মসজিদের কক্ষে ডেকে নিয়ে একইভাবে ধর্ষণ করেন তিনি। এ সময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মিজান মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় মেম্বার মাহমুদউল্লাহ, মসজিদ কমিটির সভাপতি রৌশন মিয়া, এলাহী মিয়া ও আক্তারের নেতৃত্বে এক সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত ইমাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তরুণীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তার বাবা ফরিদ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমকে মারধর করেন এবং বিয়েতে রাজি না হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর তথাকথিত সমাজ নেতারা ৭০ হাজার টাকার সমঝোতা করার চেষ্টা করেন, যার কিছু অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হলেও তারা তা ফেরত দেন। পরে সমঝোতায় ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে তরুণীর মা বাদী হয়ে ঘটনার ১৩ দিন পর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা টাইমস নিউজকে বলেন, গত মাসের ৩ তারিখ রাতের ঘটনায় স্থানীয়রা সালিশি দরবার বসালেও তারা ন্যায় বিচার না করায় আমি ২দিন পরে (৭ সেপ্টেম্বর) থানায় যায়। ওসি স্যার আমাকে কোন সহায়তা না করে হয়রানি করেছি। ফলে আমি সাংবাদিকদের সহায়তা নিয়ে ১৩ দিন পর থানায় মামলা করেছি। ঘটনার এক মাস হলেও কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। এতে অভিযুক্তরা আমাকে কল দিয়ে বিরক্ত করে এবং হুমকি দিচ্ছে আর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমি বর্তমানে এলাকায় থাকতে পারতেছি না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব- ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম টাইমস নিউজকে জানান, “বিজ্ঞ আদালতে ২নং আসামি ফরিদ মিয়া হাজির হয়ে জামিনে আসছেন। মূল আসামি মিজান মিয়াকে গ্রেফতার করতে পারিনি, তবে চেষ্টা চলছে।”
আর এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম টাইমস নিউজকে বলেন, একজন আাসামী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। বাকিটা তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যাবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।