1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

স্বামীর সঙ্গে তর্ক, বাসচালককে অফিসে নিয়ে পেটানোর অভিযোগ সার্কেল এসপির বিরুদ্ধে

টাইমস প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২২২ বার পঠিত

নওগাঁর সাপাহারে সিটবিহীন টিকিটে বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক বাসচালককে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাসে ধানসুরা যাওয়ার সময় সিট নিয়ে বাসচালক ও সুপারভাইজারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান সহকারী পুলিশ সুপারের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ। তিনি সিটবিহীন টিকিটে বাসে ওঠেন বলে দাবি করা হয়।

বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে রাজশাহীগামী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে সুপারভাইজারের সঙ্গে জয়ন্ত বর্মণের তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে বাসচালকের সঙ্গেও তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরায় নামার সময় চালক ও সুপারভাইজারকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে তিনি চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই ঘটনার পর টিকিট মাস্টারের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাসচালক ও সুপারভাইজারকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। যাত্রাপথে একাধিকবার ফোন আসায় বাসটি রাজশাহীতে পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে বাসটি সাপাহারে ফিরে এলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে সার্কেল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী বাসচালক বাদলের অভিযোগ, অফিসে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তিনি দাবি করেন, সহকারী পুলিশ সুপারের নির্দেশে তার দেহরক্ষীও তাকে মারধর করেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

বাসচালক বাদল বলেন, “আমি একজন শ্রমিক। শুধু কাজ করার কারণে এভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হবে কেন? আমি এর বিচার চাই।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, বাসের ভেতরে জয়ন্ত বর্মণের আচরণ ছিল হুমকিমূলক ও অশোভন। তারা বলেন, ক্ষমতার পরিচয় দেখিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ঘটনায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একজন চালককে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমরা অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ বলেন, “ড্রাইভার ও সুপারভাইজারের সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়টি আমি ফোনে শুনেছি। রাতে ড্রাইভার অফিসে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কাউকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “মারধরের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। তবে কেউ ভুক্তভোগী হলে লিখিত অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর