নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের শরিয়তপুর গ্রামের এক অদম্য তরুণের নাম আবু রায়হান। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী, বয়স ১৬ বছর হলেও উচ্চতা মাত্র সাড়ে তিন ফুট। কিন্তু এই ছোট শরীরের ভেতরে রয়েছে অদম্য মনোবল, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস আর এক অশেষ ইচ্ছাশক্তি।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পরিণত করেছেন নিজের শক্তিতে। সম্প্রতি তিনি পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেছেন এবং এখন পড়ছেন একটি কওমি মাদ্রাসার কিতাব বিভাগে। তাঁর স্বপ্ন— একজন বড় আলেম হয়ে দেশের সেবা করা।
রায়হান নোয়াখালীর হাতিয়ার শরিয়তপুর গ্রামের কৃষক বাবুর মিয়ার সন্তান। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। চার মাস আগে প্রকল্প দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ শেষ করে বর্তমানে কিতাব বিভাগের চতুর্থ জামাতে অধ্যয়ন করছেন।
হাফেজ রায়হান বলেন, “আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে তিনি আমাকে এই পথে এনেছেন। আমি চাই বড় আলেম হয়ে দ্বীনের খেদমত করতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
রায়হানের শিক্ষক মাওলানা আরিফুল ইসলাম বলেন, “রায়হান অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্র। তার প্রতিবন্ধকতাই এখন তার সাফল্যের সোপান। লেখাপড়া ও খেলাধুলায় সে অন্যদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।”
সহপাঠীরাও রায়হানের প্রতি গভীর ভালোবাসা রাখে। তারা জানায়, “রায়হান ভাই আমাদের সবার প্রিয়। তিনি খুব ভদ্র ও মনোযোগী। পড়াশোনায়ও অনেক ভালো।”
রায়হানের বাবা বাবুর মিয়া বলেন, “আমার ছেলে শারীরিকভাবে দুর্বল, কিন্তু মনের দিক থেকে খুব শক্ত। অনেক কটু কথা শুনেছি, তবুও আল্লাহর রহমতে সে আজ হাফেজ। এখন চাই সে বড় আলেম হয়ে মানুষের উপকার করুক।”
প্রকল্প দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান মাওলানা জাকের হোসেন বলেন, “রায়হান আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। তার মেধা ও অধ্যবসায় অনুকরণীয়। এ ধরনের মেধাবী ছাত্রদের সরকারি সহায়তা পেলে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।”