শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস মিয়া সরকারি কাজের নামে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অডিওতে তিনি সরাসরি বলেছেন, “আমার বাবা আসলেও টাকা ছাড়া কাজ করব না, আপনি দিবেন না কেন?”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে জমির নামজারি, খাজনা আদায়, দলিল যাচাইসহ বিভিন্ন কাজে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০–২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন। সাধারণ মানুষ জানান, টাকা না দিলে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগীরা শেয়ার করেছেন তাদের কষ্টের গল্প। রুমা আক্তার বলেন, “আমি আমার বাবার জমির নামজারি করতে গিয়েছিলাম। কাগজপত্র সব ঠিক থাকলেও কর্মকর্তা টাকা দাবি করেন। আমি রাজি না হলে উনি বলেন, ‘আমার বাবা আসলেও ঘুষ নিবো, আপনি দিবেন না কেন?’ ভিডিওটি রেকর্ড করেছি, যা পরে ভাইরাল হয়েছে।”
অন্য এক ভুক্তভোগী রুমা বেগম জানান, “জমির খাজনা দিতে গিয়ে বলা হলো খাজনা প্রায় ১০ হাজার টাকা। আমি পারিনি, পরে বাধ্য হয়ে চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে।” ব্যবসায়ী মিজান হোসেনও বলেন, “জমির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য দুই মাস ধরে দৌড়াচ্ছি। শেষ পর্যন্ত কাজ করতে দুই হাজার টাকা দিতে হয়েছে।”
ঘটনার পর স্থানীয়রা অফিসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। শতাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে অফিস পরিচালনা করছেন। তারা তার অপসারণ ও দুর্নীতি বিষয়ক তদন্ত দাবি করেন।
অভিযুক্ত ইদ্রিস মিয়া বলেন, “ভিডিও এডিট করা হয়েছে। আমি কোনো টাকা দাবি করি নি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।”
ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: তারিকুল ইসলাম জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একই ধরনের ঘুষ দাবির ভিডিও ভাইরাল হলে তাকে পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মকর্তার ওপর মানুষের আস্থা কমছে এবং সাধারণ মানুষ আরও আর্থিক ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়ছেন।