1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

মতলব উত্তরের পিআইও সেলিম খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ

আনিসুর রহমান খান
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪১৮ বার পঠিত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনমতে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে বাস্তবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অসম্পূর্ণ কাজকে শেষ হয়েছে বলে দেখানো এবং বিল উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন/সংস্কার স্কুল-কলেজ ভবন সংস্কার, সড়ক মেরামত ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা বন্ধ হয়ে গেছে, তবুও প্রকল্পের অর্থ পুরোটাই উত্তোলন হয়েছে। কিছু কিছু প্রকল্প লেভেলিং ড্রেসিং এর মাধ্যমে অনিয়মে পিআইও-র যোগসাজশে পিআইসি ও প্রভাবশালী মহল সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ টাকায় গড়ে তোলা রাজধানী ঢাকার আফতাবনগরে ১০ কাঠা জায়গায় রয়েছে তার নির্মানাধীন ১০ তলা বহুতল ভবন।

২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা/কাবিখা কর্মসূচীর আওতায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে কাবিটা ১৬৬৮৬১২০/- এর অনুকূলে ৬৮টি প্রকল্প, চাল ১১৯ মেট্রিক টন অনুকূলে ২১ টি প্রকল্প, এবং গম ১১৯ মেট্রিক টন অনুকূলে ১৯ টি প্রকল্প বরাদ্দ পাওয়া যায়। গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচীর ১৫৮৫৬১১৩/- টাকার অনুকূলে ১০২টি প্রকল্প এবং ৩য় পর্যায়ে কাবিটা ৮৩৪৩০৬০/- অনুকূলে ২৫টি প্রকল্প, চাল ৪৭ মেট্রিক টন অনুকূলে ০৭টি প্রকল্প এবং গম ৪৭ মেট্রিক টন অনুকূলে ০৭টি প্রকল্প বরাদ্দ পাওয়া যায়। গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচীর ৭৯২৮০৫৬/- টাকার অনুকূলে ৪৮টি প্রকল্পের আওতায় সে আলোকে ইউনিয়ন পর্যায় হতে প্রকল্প প্রেরন তাছাড়া পরিপত্র মোতাবেক উপজেলা পিআইও এবং ইউএনও ২০% রিজার্ভ বরাদ্দ রাখতে পারে সেটা ইউনিয়ন এর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গুলো বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু পিআইও উপজেলার কলাকান্দা এবং এখলাসপুর নামক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর সাথে যোগসাজশে রিজার্ভ বরাদ্দ এর বেশিরভাগ টাকা  সে দুটি ইউনিয়ন পরিষদের দেখিয়ে নামমাত্র কাজ করে হাতিয়ে নিতেছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

‎কাবিটা প্রকল্প হতে এখলাসপুর ইউনিয়নে বোরচর আশাদ বকাউলের জমির নিকট হতে খুনেরচর নদীরঘাট পর্যন্ত রাস্তা পুনঃ নির্মাণ বাবদ ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে লেভেল ড্রেসিং করে ৫০/৬০ হাজার টাকা কাজ করে পিআইসি এবং অফিস ম্যানেজম্যান্ট এর দায়িত্ব পালনকারী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সালাউদ্দিন নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। তাছাড়া মোহনপুর ইউনিয়নে বাহেরচর আলেমের বাড়ি হতে আশ্রয়ন প্রকল্প পযন্ত রাস্তা পুনঃ নির্মাণ বাবদ ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে নামেমাত্র কিছু কাজ করে বাকি টাকা পিআইসি এবং অফিস ম্যানেজম্যান্ট এর দায়িত্ব পালনকারী উমেদার সালাউদ্দিন নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। তাছাড়া গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর সাদাকালা ব্রীজ হতে নয়াকান্দি ব্রীজ পযন্ত রাস্তা পুনঃ নির্মাণ প্রকল্পে ২.৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে নামেমাত্র পিআইসি এবং অফিস ম্যানেজম্যান্ট এর দায়িত্ব পালনকারী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সালাউদ্দিন নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। তাছাড়া ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সালাউদ্দিন এর শ্বশুর বাড়ির এলাকায় ফতেহপুর পশ্চিম এ গোয়ালবহর তাজুল ইসলাম মৃধা বাড়ির ইটের রাস্তা হতে সামিদ প্রধানের বাড়ি পযন্ত রাস্তা পুনঃ নিমাণ এ ২.২১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে পিআইসি এবং অফিস ম্যানেজম্যান্ট এর দায়িত্ব পালনকারী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সালাউদ্দিন নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন

সকল প্রকল্প ইউনিয়ন থেকে ৫/৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে জনপ্রতিনিধিদেরকে সভাপতি করে কাজ শুরু করা হয়েছে।  ইউএনও পিআইও এর যৌথ স্বাক্ষরে পিআইসি সভাপতিকে বিল প্রদান করবে। সে অনুযায়ী উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার বিল পাশ করে সভাপতির হাতে পোঁছাবে। ব্যাংক থেকে সভাপতি নিজ স্বাক্ষরে বিল উত্তোলন করবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো উপ-সহকারী প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ বিল স্বাক্ষর করে নিজেই হিসাব রক্ষন অফিস থেকে পাশ করে নিজে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ১৫/২০% টাকা রেখে দেন। পরর্বতীতে পিআইসি সভাপতিকে বিল প্রদান করে।

‎গম ও চাল থেকে টন প্রতি ৫০০০/- টাকা দিতে বাধ্য করেন। এ বিষয়ে পিআইসি বলেন- এটা কিসের টাকা রাখলেন? তখন তিনি বলেন, এটা সরকারি ভ্যাট আইটি। কিন্তু সরকারি পরিপত্র মোতাবেক টিআর/কাবিটা কোন ভ্যাট আইটি কর্তন হয় না। এটা তারা ঘুষ হিসেবে চালিয়ে নিচ্ছেন। তাছাড়া স্থানীয় ঠিকাদারদের সাথে কথা বলে মতলবে ২৮টি ব্রীজের অনুকূলে প্রায় ২০ কোটি টাকার বরাদ্দের ১০% টাকা উৎকোচ আদায় করেন ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদ। এ সকল বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলার একাধিক চেয়ারম্যান/সচিবদের সাথে পিআইসি সভাপতি/মেম্বারগনের সাথে কথা বললে এগুলোর সত্যতা জানা যায়।

সবার মনে প্রশ্ন ৫ই আগষ্টের আগে তো এগুলো নামে মাত্র ৩%-৪% টাকা নিতো, এখন ফ্যাসিস্ট সরকারের পলায়নের পরও উপজেলার পিআইও মতলব উত্তর উপজেলায় আসার পর থেকে কেন ২০% টাকা আদায় হচ্ছে? তাছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকল্পের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে একাধিক চেয়ারম্যান/মেম্বারদের অভিযোগ করে তারা জানান, সালাউদ্দিন আহমেদ সাইড ভিজিটে গেলে দশ হাজার টাকার নিচে সাইড ভিজিট ছাড়া আসে না। তাকে টাকা দিলে বিল দ্রুত হবে, না হয় বিল ঘুরাবে, বাস্তবে তাই হচ্ছে।

‎সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টাকা আদায় এবং নগদ টাকা বিতরনের কাজটি মূলত করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ। আর এ বিষয়ে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি, তিনি মূলত অফিস করেন না, আর টাকা ছাড়া ফাইল ছাড়েন না। আর এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর