ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে সরকারের অনুমোদিত ড্রেজিংকে কেন্দ্র করে ১৫ নভেম্বরের সংঘর্ষ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—এটি কি সত্যিই এলাকাবাসীর প্রতিবাদ, নাকি রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত হামলা?
অনুসন্ধানে জানা যায়, দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ–এর প্রধান উপদেষ্টা ও জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি জামাল উদ্দিন চকের বৈধ ইজারাকৃত ড্রেজারে সেদিন প্রতিদিনের মতো কাজ চলছিল। এ সময় ট্রলারযোগে আসা ৪০–৫০ জনের একটি দল শ্রমিকদের কাজ বন্ধে বাধ্য করে এবং পরে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি—হামলাকারীরা “সাধারণ মানুষ” নয়; তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। ভিডিও ফুটেজেও একই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্রের অভিযোগ—এই দলটির নেতৃত্বে ছিলেন এক উপজেলা বিএনপি নেতা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য— “জনগণের প্রতিবাদের নামে আসলে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত দল পাঠানো হয়েছিল।”
এদিকে ভোলায় গত ১ নভেম্বর জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সমাবেশে হামলার ঘটনার সঙ্গে এই হামলার মিল খুঁজছেন স্থানীয়রা। ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ নির্বাচনে নামার পর তার অনুসারীদের ওপর চাপ বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জামাল উদ্দিনের ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন—তাকে ও তার বৈধ ড্রেজারকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “অবৈধ বালু উত্তোলন” শিরোনামে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।
অনেকের প্রশ্ন— যদি প্রকল্পে ক্ষতি হতো, তবে অভিযোগ কোথায়? সরাসরি হামলাই বা কেন?”
তাদের মতে, এটি জনস্বার্থ নয়ই, বরং একটি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশ।
জামাল উদ্দিনের পক্ষে বলা হয়েছে—তিনি অনুমোদিত ইজারা নিয়ে বৈধভাবে কাজ করছিলেন। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ তাকে টার্গেট করছে এবং নতুন করে মামলা সাজানোর চেষ্টাও চলছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ।
আর স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে— হামলার নির্দেশদাতারা কারা এবং সরকারি প্রকল্পে নাশকতার উদ্দেশ্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন- মেঘনার ড্রেজিংকে ঘিরে এই সংঘর্ষ শুধুই শ্রমিক হামলা নয়—এর ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে বড় একটি রাজনৈতিক টানাপোড়েন।