নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের পর গ্রেফতার আসামিরা আদালতে দায় স্বীকার করেছেন। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামি—সবুজ, শাহীন মন্ডল ও শহিদুল মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আসামিদের দেখানো মতে জঙ্গল ও পানির ডোবা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া ও বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে শাহীন মন্ডল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়া শাহীন মন্ডল ও তার পিতা শহিদুল মন্ডলকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তারাও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহীন হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
জবানবন্দিতে শাহীন জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে তারা তার মামা হাবিবুরকে হত্যা করে। এ সময় সে নিজেই হাসুয়া দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করে এবং তার বাবা শহিদুল, কাজিন সবুজসহ অন্যরা তাকে চেপে ধরে রাখে। একপর্যায়ে স্বপন নামে হাবিবুরের এক চাচাতো ভাই ছোরা দিয়ে তার গলা কেটে দেয়।
পরে তারা হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনকে হত্যা করে এবং ঘরে ঢুকে দলিল ও গরু বিক্রির টাকা খুঁজতে থাকে। এ সময় শিশু সন্তান পারভেজ ও সাদিয়া ঘুম থেকে জেগে উঠলে, তাদেরও হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—হাবিবুর (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।