নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চাঁদার টাকা না পেয়ে তিনবারের নির্বাচিত এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। হামলা চালিয়ে বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট, গরুর শেডে অগ্নিসংযোগ এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৩৪ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের কালিগ্রাম পোতাপাড়া গ্রামে ইউপি সদস্য রাজু আহমেদের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পপি খাতুন (৩২) বাদী হয়ে নওগাঁর বিজ্ঞ আমলী আদালত-০২ এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— মাসুদ রানা (৫০), শাহা আলম (৩৫), মোশারফ হোসেন (৩৫), মাহফুজ ওরফে মাফু (৪৩), আব্দুল আলীম (৬০), সারোয়ার জাহান (৪৫), শহিদুল ইসলাম (৪৪), আনোয়ার হোসেন (৩৫), হাতেম আলী (৩৫) ও তৌহিদুল ইসলাম (৫০)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর স্বামী ইউপি সদস্য রাজু আহমেদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগীর স্বামীকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ও তার স্ত্রী পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এরপর সন্ত্রাসীরা বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নেয়। একই সঙ্গে প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, শোকেস, কাঠের বাক্স, গ্যাসের চুলা, রাইস কুকার, টিন, দরজা-জানালা ভাঙচুর ও চুরি করে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।
তাণ্ডবের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা গরুর শেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে।
এতেই শেষ নয়, একই দিনে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর স্বামীর লিজ নেওয়া পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। পরে সংঘবদ্ধভাবে জাল দিয়ে প্রায় ১০০ মণ মাছ লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। মামলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী পপি খাতুন বলেন, “ওরা অনেকদিন ধরে চাঁদা চাইছিল। আমরা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাদের ওপর এই হামলা চালায়। এখন আমরা বাড়িতে ফিরতেও ভয় পাচ্ছি। জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দিনের আলোতে এভাবে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা হামলা চালাবে— তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল গনি বলেন, ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।