নওগাঁর পোরশা এলাকায় ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা রশি টেনে মোটরসাইকেল আটকিয়ে ৬ জন আরোহীকে জিম্মি করে পাশের একটি আম বাগানে হাত-পা বেঁধে রাখে। এই সময় ডাকাতরা নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা থানাধীন সরাইগাছি-খাটাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে দ্রুত অভিযান চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও নওগাঁ থেকে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো–
নওগাঁ সদরের দোগাছী এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত গোলাম মোস্তফা ওরফে শ্যামল (৫৫)। পুলিশ বলছে
ডাকাতিতে ব্যবহৃত অস্ত্র, রশি ও ভিকটিমের মালামাল তার নিকট থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে ২টি মামলা রয়েছে। সাপাহার উপজেলার আবু তাহের (৫৬)। তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। আবু তাহেরের ছেলে কামাল হোসেন (২৩)। তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬)। পুলিশ বলছে পূর্বে অন্য একটি ডাকাতি মামলায় ৫ বছর জেল খাটার পর সে মুক্তি পায়। তার বাড়ি থেকে একটি রেজিস্ট্রেশন বিহীন ডিসকভার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার জনাব তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তারা রাস্তায় রশি টেনে মোটরসাইকেল আরোহীদের গতিরোধ করত। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ফলে দ্রুততম সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।