নওগাঁয় পুলিশের এস আই পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় মোফাজ্জল হোসেন নামে এক ভুয়া এস আইকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (২২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে খাটখইর বাজার ব্রিজ মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। কাজী মোফাজ্জল হোসেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নহলাকালু পাড়া (কাজীপাড়ার) মৃত কাজী মহাসিন আলির ছেলে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার সফিউল আলম। পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, মোফাজ্জল প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলা পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে এবং নিজেকে নওগাঁ সদর মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর পরিচয় দেন। এরপর কাজী মোফাজ্জল হোসেন পুলিশের পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। খাটখইর তিতু ফার্মেসিতে গিয়ে নওগাঁ সদর থানার মসজিদের উন্নয়ন কল্পে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এভাবে বেশ কয়েকটি দোকানে চাঁদা দাবি করে ওই ভূয়া এসআই শাহিন পরিচয়ে। ইতিপূর্বে হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জালাল হোসেনের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা নেয় এবং কাঠখইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক এর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এই ভূয়া পুলিশ। এদিকে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময়ে ফাঁড়িতে এসে ‘সাব-ইন্সপেক্টর’ মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। কিন্তু কেউ ফাঁড়িতে কর্মরতদের মধ্যে কেউ মোফাজ্জলকে শনাক্ত করতে পারে নাই। ভীমপুর ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে প্রতারক মোফাজ্জল হোসেনকে জনসাধারণের হাত থেকে প্রতারককে পুলিশের জিম্মায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার কথা স্বীকার করে। ভীমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ ব্যানার্জি জানান, সিনিয়র কর্মকর্তাকে জানিয়ে আসামিকে নওগাঁ সদর থানায় স্থানান্তরিত করা হবে। এ ঘটনায় একটি প্রতারণার মামলার দায়েরের করা হবে। নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নুরুে আলম সিদ্দিকী জানান, তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলার প্রস্তুতি চলছে।