কুমিল্লার দাউদকান্দিতে খেলার মাঠ প্রস্তুতকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত কাজল (২০) উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের বশির ভূঁইয়ার ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাজলের বাড়িতে ঢুকতেই হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ছেলের নাম ধরে বিলাপ করছেন মা। বোন ও দাদি কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও নীরবে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করছেন, কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর বিকেলে দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর চৌমুহনী এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ প্রস্তুতকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে কাজলের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় একই এলাকার মান্নান, হান্নান, মনির হোসেন, রবিউলসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা দা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করে কাজলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় কাজলকে উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গৌরীপুরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে সেখানে সিট না পাওয়ায় ঢাকার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অবশেষে গত ৩১ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাজলের মৃত্যু হয়।
পুলিশি ময়নাতদন্ত শেষে আজ ২ জানুয়ারি জুমার নামাজের পর দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামে কাজলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার মাঠে কান্না ও ক্ষোভে ভারী পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে এলাকাবাসী এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাদের আশঙ্কা, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম বলেন,
“ভিকটিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। আমরা ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। প্রমাণ ও তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”