৩ জুলাই কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৬ সদস্যের একটি কমিটির অনুমোদন দেন উপজেলা বিএনপি। এতে মজিবুর রহমান ভুইয়াকে সভাপতি, শাহজাহান সরকারকে সিনিয়র সহ সভাপতি, এ কে আজাদ কালাম মুন্সিকে সহ সভাপতি, সেলিম খানকে সাধারণ সম্পাদ, আলমগীর হোসেনকে সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও মুজিবুর রহমান দেওয়ানকে সাংগঠনিক করা হয়। অভিযোগ উঠেছে সরকারি কর্মচারী হয়েও আলমগীর হোসেন ও মুজিবুর রহমান দেওয়ান নিজেদের নাম লিখিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে। রীতিমতো বাগিয়ে নিয়েছেন সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদও। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরণের আলোচনা সমালোচনা। আলমগীর হোসেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে মুজিবুর রহমান দেওয়ান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা যায়।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। অথচ এ ধরনের অসদাচরণের বিরুদ্ধে সরকার সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে নবগঠিত কমিটি প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে- কীভাবে একজন সরকারি চাকরিজীবী বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দলের কমিটিতে স্থান পান।
এ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুজিবুর রহমান দেওয়ানকে ফোন দেওয়া হলে তিনি টাইমস নিউজকে জানান- এটা তো আসলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মারুফ সাহেবের বিষয়। ওনি কাকে রাখছে, কাকে দিচ্ছে তা তো বলতে পারি না। মুজিবুর রহমান দেওয়ান সরকারি চাকরি করেন তা মারুফ সাহেব জানেন কি না তা তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন- অবশ্যই জানবে, জানবে না কেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলে নিজেকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা আচরণ বিধি লঙ্ঘন কি না জানতে চাইলে তিনি টাইমস নিউজকে নিউজ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এবং অফিসে এসে দেখা করবেন বলে জানান।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলমগীর হোসেনকে একাধীকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।