পাবনায় জুমার নামাজের খুতবায় আসন্ন গণভোট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মসজিদের ইমামকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনার আলোকে খুতবা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) পাবনা সদর উপজেলার আরিফপুর জেইউএস ফাজিল মাদ্রাসা মসজিদে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি এনএসআইয়ের রাজশাহী বিভাগীয় যুগ্ম পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার হাজিরহাটের মাদারবাড়িয়া এলাকায়।
মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা প্রশাসক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় ইমাম আহসান উল্লাহ মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে গণভোট বিষয়ে বয়ান দিচ্ছিলেন। এ সময় মুসল্লিদের কাতার থেকে এক ব্যক্তি বয়ানের প্রতিবাদ করেন এবং গণভোট সংক্রান্ত আলোচনা বাদ দিয়ে নামাজ শুরু করার কথা বলেন।
একপর্যায়ে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হলে ইমাম সাহেব জেলা প্রশাসকের লিখিত নির্দেশনার কপি দেখান। অভিযোগ রয়েছে, তখন অভিযুক্ত কর্মকর্তা সেই কাগজ ছুড়ে ফেলেন এবং নিজেকে ‘ডিবির চেয়েও বড় কর্মকর্তা’ দাবি করে ইমামকে মারধরের হুমকি দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত মুসল্লিরা ইমামের পক্ষে দাঁড়ান। পরে নামাজ শেষে দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ পরিবারের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা ও পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরেই ২০১২ সালে তিনি এনএসআইয়ে চাকরি পান—এমন গুঞ্জন স্থানীয়ভাবে শোনা যায়। তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েও এলাকায় বিতর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে অভিযুক্ত এনএসআই কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ইমাম সাহেব সংবিধানসহ কিছু বিষয় বলছিলেন। আমি শুধু কোরআন-হাদিসের আলোকে কথা বলার অনুরোধ করেছি। গণভোটের বিরুদ্ধে আমি কিছু বলিনি, আমরাও গণভোটের পক্ষে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হলে আমার চাকরির সমস্যা হতে পারে—এই অনুরোধটাই করেছি।’
পরে তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনা ও বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা বলেন, ‘আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি খোঁজখবর নিচ্ছি, পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।’