1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

চাহিদা ব্যাংকে, জোগান ফুটপাতে: নতুন নোটে কালোবাজার সক্রিয়

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১০২ বার পঠিত

ব্যাংকে নতুন নোট নেই, অথচ রাজধানীর ফুটপাতে প্রতিদিনই বসছে নতুন নোটের দোকান। প্রতিনিয়তই আসছে নতুন নতুন নোট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নোট সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও কালোবাজারে তা বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই। ফলে নতুন নোটের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।

প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন নোটের চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। এই চাহিদা মেটাতে সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়ে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নতুন নোট সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করেন। সেই সিদ্ধান্ত এবারও বহাল রেখেছে মোস্তাকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নোট সরবরাহ বন্ধের কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সক্ষমতা কম এবং কাগজ সংকটের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমরা কাগজ, কালি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উপকরণ সংগ্রহ করি, সেগুলোর সংখ্যা বিশ্বে খুবই সীমিত। প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় নতুন নোট ছাপাতে সমস্যা হচ্ছে।”

তবে মুখপাত্র যখন এই ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের গেট থেকে অল্প দূরত্বে দেদারছে বিক্রি হচ্ছিল নতুন নোট। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের আশপাশেই নয়, রাজধানীর গুলিস্তান এলাকাতেও প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন নোট সাজিয়ে বসেছেন অর্ধশতাধিক বিক্রেতা। স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রেতার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।

এদিকে নতুন নোট সংগ্রহ করতে এসে অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। কারণ, দাম অনেক বেশি। তারপরও ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়তি দামে নতুন নোট কিনছেন অনেকে।

একজন ক্রেতা বলেন, “৫০ টাকার নোটের ৫০০ টাকার বান্ডিল নিয়েছি। হাজারে ১০০ টাকা বাড়তি নিয়েছে।”

বছরের ব্যবধানে নতুন নোটের দামে এত বড় পার্থক্যের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলছেন, তারাও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

একজন বিক্রেতা বলেন, “এভেইলেবল বান্ডিল পাচ্ছি না। বান্ডিলের অভাব। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কালোবাজারে নতুন নোট সরবরাহের পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, এই কালচারের সঙ্গে যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লোকজনও জড়িত থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কমপাউন্ডের বাইরে কী হচ্ছে, তা সরাসরি নজরদারি করার সুযোগ তাদের সীমিত।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— কালোবাজারে নয়, ব্যাংকের কাউন্টার থেকেই যেন নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারেন তারা। ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের কাছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় দাবি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর