কুমিল্লার চান্দিনায় ঘর-বাড়ি দখল করার আড়ালে রহিমা বেগম (৩৪) নামে এক গৃহকর্মীকে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অপবাদ দিয়ে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে বেধরক মারধর করে ঘরে তালা দিয়ে গরু-ছাগল লুটের অভিযোগ উঠেছে খোকন মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকালে চান্দিনা উপজেলার বরকরই ইউনিয়নের বরকরই গ্রামের বাদশাহ্ বাড়িতে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে। এসময় তার মা বয়োবৃদ্ধ শ্রীমতি (৬৫) কেও মারধর করে আহত করার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়- দীর্ঘদিন ধরে রহিমা বেগমের ঘর-বাড়ি দখল করার পাঁয়তারা করছেন একই বাড়ির মো. শহিদ এর ছেলে খোকন মিয়া। খোকন সম্পর্কে তার মামাত ভাই। পাশের বাড়ির এক পুরুষকে জড়িয়ে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার খোকনের নেতৃত্বে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ভুক্তভোগী রহিমা ও তার মাকে মারধর করে। এসময় খোকন তাদের ঘর থেকে ১টি গরু এবং ২টি ছাগল জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়। গ্রামবাসী আরও বলেন- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় দৈনিক মজুরীতে রাস্তায় কাজ করতেন রহিমা বেগম। গত ৭/৮ মাস পূর্বে তার ওই কাজের চাকরি চলে যাওয়ায় পাশের একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে কোন রকমে জীবন যাপন করে আসছেন তিনি। রমজান মাসে রহিমা বেগম শারীরিকভাবে হঠাৎ অসুস্থ হলে অসামাজিক কাজে জড়িত আছে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে এলাকাবাসীকে রহিমার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলে খোকন।
ভক্তভোগী রহিমা বেগম বলেন- ১৫ বছর যাবৎ আমার স্বামী না থাকায় আমি রাস্তার কাজ করে আমার মা ও মেয়েকে নিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করছি। গত ৭/৮ মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় পাশের একটি বাড়িতে রান্না-বান্নার কাজ করি। ঈদের আগে আমি শারীরিকভাবে হঠাৎ অসুস্থ হলে তখন তারা ওই বাড়ির পুরুষকে জড়িয়ে আমাকে অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। বৃহস্পতিবার সকালে খোকন আমাকে এবং আমার মা-কে মেরে ১টি গরু ও ২টি ছাগল নিয়ে যায় এবং বসত ঘরে তালা দিয়ে দেয়। অভিযুক্ত খোকনের দাদী আমার মা শ্রীমতি’র নামে এই জায়গা দিয়ে গেছে। জায়গা দেওয়ার পর থেকেই আমার সাথে অনেক অত্যাচার করছে সে। এখন জায়গাটি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারায় বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ করছে খোকন।
পার্শ্ববর্তী বাড়ির আলমগীর হোসেন বলেন- তাদেরকে মারধর করার বিষয়টি সকালে ভুক্তভোগী রহিমার মা আমাকে জানিয়েছে। এর আগে রহিমার বিষয়ে যে অপবাদ উঠেছিলো তা আমি শুনেছি। কিন্তু ওই ঘটনার কোন প্রমাণ আমরা পাইনি। ঘটনার পর থেকে খোকন পলাতক রয়েছে। তবে প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ তুলে তাদের সাথে এমন আচরণ করা সত্যিই অমানবিক।
এবিষয়ে অভিযুক্ত খোকনের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভুক্তভোগী রহিমা বেগম ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধরের বিষয়টি অভিযুক্ত খোকনের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম অস্বীকার করলেও গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় বরকরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মজুমদার শিপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
আর এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ- উল ইসলাম ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, আমি এ ঘটনা সম্পর্কে এই প্রথম শুনলাম! লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।