কুমিল্লার চান্দিনায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম (৫৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাত আনুমানিক সোয়া ৮ টার দিকে চান্দিনা পৌরসভার মহারং পশ্চিম পাড়া এলাকার তার বোনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে চান্দিনা থানা পুলিশ। যদিও ৫ আগস্টের পর এক বছর অতিবাহিত হতে চললেও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যেই চলাফেরা করতেন এবং স্বাভাবিকভাবেই নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
অনেকের দাবি- তার আপন ভাই নজরুল ইসলাম বিএনপি করার সুবাদে ৫ আগষ্টের পর ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তার পাশে তিনি। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিগত দিনে তার আপন ভাই নজরুল ইসলাম বিএনপির পদধারী হলেও মেয়র মফিজুল ইসলামের কারণে তিনি দাপটের সাথেই এলাকায় চলতেন সে সময় তিনি। বলতে গেলে ক্ষমতার পালাবদল হলেও এক ভাই বিএনপি, আরেক ভাই আওয়ামীলীগ করেও একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করতেন তারা এবং ছায়ার মতোই ছিলেন দুই ভাই একে অপরের। তাইতো ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে বিরোধী দল মতের মানুষের ওপর জুলুম অত্যাচার ও হামলা মামলা দিলেও এসব ঝামেলায় পড়তেই হয়নি নজরুল ইসলামকে। ২০১৩ সালে একটি মামলার আসামী হয়েছিলেন তিনি। তবে সেটিও তার আপন ভাই মফিজুল ইসলাম মেয়র হওয়ার আগে।
আটককৃত মফিজুল ইসলাম চান্দিনা পৌরসভার মহারং গ্রামের হাজী আলী মিয়ার ছেলে। জানা যায়, ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ও আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি তার আপন ভাগিনা ফারুককে দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দখলবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ নেওয়া ও কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন তিনি। ফারুকের নামে চান্দিনা থানায় ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২১ সালের ৩টি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও তিনি এখনো রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। অথচ তিনিও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গুঞ্জন রয়েছে, মফিজুল ইসলাম অবৈধভাবে কামিয়েছেন দুই হাতে শত শত কোটি টাকা। রাজধানীতে গড়ে তুলেছেন একাধীক ফ্লাট ও সম্পদ। এ নিয়ে ৫ আগষ্টের পর তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হলেও পরিবারের নামে মামলা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।
অন্যদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় ২৮ আগষ্টের ঘটনায় ও কদমতলী থানাধীন এলাকায় ২২ আগষ্টের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় এজাহার নামীয় আসামী সে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় ২০১০ সালের ১টি, ২০১৩ সালের ১টি ও ২০১৮ সালের ১টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। মফিজুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। এর পর চান্দিনা উপজেলা যুবলীগ এবং পরবর্তীতে ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি চান্দিনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর তিনি পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।