কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানা ও থানাধীন চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফাঁড়িটিতে নিয়মিত কোনো ইন্সপেক্টর পদায়ন না থাকায় কনস্টেবল থেকে পদন্নোতি পাওয়া একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে নামমাত্র ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বিভিন্ন অবৈধ খাত থেকে মাসোহারা বা মাসিক চাঁদা সরাসরি আদায় করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকবাজার এলাকায় চোরাচালান, অবৈধভাবে মাটি ব্যবসা, মাদক কারবারসহ একাধিক অবৈধ খাত থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলা হচ্ছে।
এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই কুতুব উদ্দিনের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চকবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর সুমন মিয়া ও ৫ আগষ্টের আগে থেকে অবস্থান করা এএসআই মীর সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজের নামও রয়েছে। একই সঙ্গে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশের বিতর্কিত সদস্যদের বিভিন্ন জায়গায় বদলি হলেও একই স্থানে বহাল থাকা কনস্টেবল রাসেল, মামুন ও খাইরুলের নামও আলোচনায় এসেছে।
টাইমস নিউজের অনুসন্ধান অনুযায়ী, চকবাজার এলাকার দিপু নামে এক চোরাকারবারীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০,০০০/- টাকা, জোড়া মেহের এলাকার ইকবাল এবং কমলপুরের বিল্লাল নামে দুই মাটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসে ১০,০০০/- টাকা করে ২০,০০০/- টাকা, কাটাবিল এলাকার শরিফ ও গর্জন খোলার বৃষ্টি নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০,০০০/- টাকা করে ২০,০০০/- টাকা এবং ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০,০০০/- টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য এসেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চকবাজার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা। বাণিজ্যিক গুরুত্ব ছাড়াও এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নিকটে হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বেশি।
৫ আগস্টের পর কোতোয়ালি মডেল থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন মহিনুল ইসলাম। তখন সিন্ডিকেটের কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরলেও অভিযোগ রয়েছে, ফাঁড়ির নতুন ইন্সপেক্টর ও থানার ওসির মধ্যে সংঘাতের কারণে ফাঁড়িতে পুনরায় ইন্সপেক্টর পদায়ন করা হয়নি। ফলে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং স্থানীয়রা বলছেন, আগের ওসি চলে গেলেও এটি এসআই কুতুব উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, চকবাজার ফাঁড়ি পুলিশ নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নজর কাড়তে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-কে নিয়মিত উপহার দিয়ে থাকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ফাঁড়িতে নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও নিয়মিত তদারকির অভাবের কারণে চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চকবাজার ফাঁড়িতে যোগ্য ইন্সপেক্টর পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে চকবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সাব-ইন্সপেক্টর সুমন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানোর পরও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার মাসোহারা সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটা আমার জানা নেই। অফিসিয়ালি তারা ডিউটি করছে, কিন্তু ইন্টারনালি কী করছে—সেটা আমার জানা নেই।”
চকবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ইন্সপেক্টর পদায়ন না থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা অথরিটি জানবে। আমি কিভাবে জানবো? সামনে নির্বাচন, হয়তো হুট করে পোস্টিং দেওয়া যাচ্ছে না। ইলেকশন কমিশনের সুপারিশ ছাড়া এখন কোথাও পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে না।”
“জেলা পুলিশের বক্তব্যসহ দ্বিতীয় পর্ব
প্রকাশিত হবে শিগগিরই।”