নওগাঁর আত্রাইয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে এমরান মিয়া (২৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের দুই পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে আত্রাই রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আহত এমরান মিয়া বর্তমানে বাগেরহাট জেলায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার শ্বশুরবাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে। ছুটিতে শ্বশুরবাড়িতে আসার উদ্দেশ্যে তিনি রাতে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে রওনা হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ট্রেনটি আত্রাই রেলস্টেশনে পৌঁছালে ট্রেনটি পুরোপুরি থামার আগেই এমরান মিয়া দ্রুত নামার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে তার দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্টেশন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত যাত্রীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
পরে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে শ্বশুরবাড়ির স্বজনরা, তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল করিম বলেন, আহত ব্যক্তি একজন পুলিশ কনস্টেবল এবং তিনি বাগেরহাটে কর্মরত। তিনি খুলনা থেকে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে করে আত্রাইয়ে আসছিলেন। ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর পুরোপুরি থামার আগেই নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তার দুই পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, চলন্ত ট্রেন থেকে ওঠানামার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন পুরোপুরি থামার আগে ওঠানামা না করার বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতা প্রয়োজন।