1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

ক্ষেতলালে সিএ’র বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার দম্ভ ও অনিয়মের অভিযোগ

টাইমস প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫
  • ২৭৭ বার পঠিত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার একজন গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি কর্মকর্তা হিসেবে বহাল থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় তিনি যেন পরিণত হয়েছেন বিতর্ক, প্রভাব প্রতিপত্তি ও অনিয়মের প্রতীকে। সম্প্রতি ওই উপজেলা সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (সি,এ) এস এম শওকত এর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ গোটা প্রশাসনিক অঙ্গনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক ধরনের অঘোষিত ‘ছায়া প্রশাসন’।

সরকারি মালিকানাধীন পরিত্যক্ত ভবন ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছেন তিনি। এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে। এ সব ভবন ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষ।

‎উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সুকৌশলে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গোপনে একটি অনিয়মতান্ত্রিক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের মাধ্যমে কাটা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জাম, কাঁঠাল, মেহগনি গাছ যা বিক্রয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে গেছে ব্যক্তিগত পকেটে।

‎প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো একজন সরকারি কর্মকর্তার মৌলিক দায়িত্ব হলেও অভিযোগ রয়েছে—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ওপর ‘মাতব্বরি’ দেখিয়ে তারা কার্যত নিজের আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক কাজকর্মে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা। তার বিরুদ্ধে শত অভিযোগ থাকলেও ক্ষমতার দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। সাম্প্রতি ক্ষেতলাল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ ইমরান (সাবেক) তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেড়ে উপজেলা ছেড়ে চলে গেছেন অত্যত্র।

ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছলচাতুরি করে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাগ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে চলেছে এক প্রকার ‘দুর্নীতির মহোৎসব’।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, নিজ নাম গোপন রেখে অন্যের নামে নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন তিনি। এতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ যেমন হয়েছে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক ঠিকাদারি ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এক্ষেত্রে দায়সাড়া ভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজে অনিয়ম ও অর্থ তশ্রুপের অভিযোগ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশকে বিজ্ঞাপন, তদবির এবং প্রকল্প বরাদ্দ পাইয়ে দিয়ে নিজের চারপাশে তৈরি করেছেন এক ধরনের ‘সুরক্ষা বলয়’। এসব সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের মাধ্যমেই তিনি হয়েছেন স্থানীয় প্রেসক্লাবের ‘উপদেষ্টা’—যা সাংবাদিকতা নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন।

‎প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, হুমকি-ধমকি, ক্ষমতার দম্ভ ও দুর্ব্যবহারের ঘটনাও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের নামে বেনামে ফাঁসানোর মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে এসব অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলেন, জনস্বার্থে দায়িত্বরত একজন সরকারি কর্মচারী যদি নিজেই জনস্বার্থের ক্ষতি করে থাকেন, তাহলে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা মুখ থুবড়ে পড়ে।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আসিফ আল জিনাত বলেন, আমি নতুন এসেছি এ উপজেলায়, কে কেমন বুঝতে একটু সময় লাগছে। তার কিছু কিছু ঘটনা শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর