জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর স্বামী রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের নামে বরাদ্দকৃত গাড়িটি নিয়মিত ব্যক্তিগত যাতায়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়ির চালক ও জ্বালানি ব্যয়ও উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে বহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনের সামনে উক্ত গাড়িতে রাকিবুল হাসানকে দেখা যায়। এ সময় ঘটনাটি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে গাড়িটি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, প্রায়ই ইউএনও’র স্বামীকে ওই সরকারি গাড়িতে চলাচল করতে দেখা যায়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯ আগস্ট দেশের সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইউএনওদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও সানজিদা চৌধুরী।
গাড়ির চালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে জানান, “ইউএনও স্যারের স্বামীকে বগুড়ায় রেখে বাসায় এসে কথা বলবো।” প্রায় ৪৫ মিনিট পর পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বগুড়া চারমাথা হয়ে দুপচাঁচিয়া হয়ে ক্ষেতলালে রওনা দেব।”
তবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইটাখোলা বাজারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চালক দাবি করেন, গাড়িটি সার্ভিসিংয়ের জন্য বগুড়ায় নেওয়া হয়েছিল। তবে কোন গ্যারেজে সার্ভিসিং করা হয়েছে—এ সংক্রান্ত কোনো ভাউচার তিনি দেখাতে পারেননি।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদের কোনো সরকারি গাড়ি জেলার বাইরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হয়। অনুমতি ছাড়া জেলার বাইরে ব্যবহার বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ঘটনার পর সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ক্ষেতলাল প্রেসক্লাবের সিনিয়র এক সাংবাদিক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান, যিনি বর্তমানে নেত্রকোনা জেলা-এ অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) হিসেবে কর্মরত, তার সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এই বিষয়ে ইউএনও সানজিদা চৌধুরীর মন্তব্য জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন। পরে পুনরায় কল দেওয়া হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। পরে তার WhatsApp নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি তার।