কুমিল্লা নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসাগর পাড়ে বেড়াতে গিয়ে বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক দম্পতি। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত নারী কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানা ও তার স্বামী কাজী আব্দুল্লাহ মো. জোবায়ের ধর্মসাগর পাড়ে বেড়াতে যান। জোবায়ের চাঁদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেখানে অবস্থানকালে অজ্ঞাতনামা তিন যুবক নারী কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তার স্বামী কনস্টেবল জোবায়েরের ওপর চড়াও হয় তারা। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)র অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম শাহ ডেইলি টাইমস নিউজকে জানান, হামলার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
দিনদুপুরে সাধারণ মানুষের সামনে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নজরে আসার পর তিনি দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর নির্দেশ দেন। এরপর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর টানা প্রায় ১২ ঘণ্টার অভিযানে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দুই আসামিকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— নগরীর কালিয়াজুড়ি (মুন্সেফ কোয়ার্টার) এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রিফাত (১৯) এবং কোতয়ালী মডেল থানাধীন ভূবনঘর এলাকার সিয়াম (২০)।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার ডেইলি টাইমস নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।