কুমিল্লার তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক দুইটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, ধারালো অস্ত্র ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তিতাস উপজেলার উজিরাকান্দি এলাকায় মোসা. নাছরিন আক্তারের বসতঘরের গেইটের তালা ভেঙে ডাকাতরা প্রবেশ করে। এসময় তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। এ ঘটনায় তিতাস থানায় মামলা নং-১৪, তারিখ ২৭/০২/২০২৬ খ্রি., দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা রুজু হয়।
একই রাতে আনুমানিক রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে তিতাস উপজেলার কাকিয়াখালী এলাকায় মঞ্জুরা বেগমের বাড়িতে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ডাকাতরা। এরপর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় তিতাস থানায় মামলা নং-১৫, একই তারিখে, একই ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের হয়।
দুটি মামলার তদন্তে পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল)-এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিতাস ও দাউদকান্দির বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান চালিয়ে চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়—
১টি স্বর্ণের চেইন, ৩টি স্বর্ণের কানের দুল,
১ জোড়া রূপার নূপুর, রূপার বেসলাইট ও চেইন, ১৩টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ২টি সিএনজি অটোরিকশা ও নগদ ৩৭,২৪৭ টাকা।
এছাড়াও কাঠের বাটযুক্ত ছুরি, কাটার, শাবল ও লোহার রড, ডিজিটাল ক্যামেরা, ব্লেন্ডার মেশিন, টর্চলাইট, রাউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী
মুখোশ, হাফ প্যান্ট ও একটি ট্রাভেলস ব্যাগ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও ব্রাহ্মণপাড়া থানার পূর্বের অন্তত ৯টি ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।