1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

“ওরা ৫ বোন মিলে আমার মেয়ে-জামাই আর নাতি-নাতনিকে হত্যা করছে”- সাবিনা বেগম

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৪ বার পঠিত

“ওরা ৫ বোন মিলে আমার মেয়ে-জামাই আর নাতি-নাতনিকে হত্যা করছে।”

এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডেইলি টাইমস নিউজের প্রতিবেদকের সামনে কথাগুলো বলছিলেন নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম।

তিনি বলেন, “১৩-১৪ বছর আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হয়েছে। ছেলেটা মাদ্রাসায় পড়ে। মাদ্রাসায় পড়বে না দেখে ৮ দিন আগে বাড়িতে চলে আসে। বিয়ে দেওয়ার পর থেকে ননদরা আমার মেয়ের সঙ্গে অশান্তি করে। এক বাচ্চা হওয়ার পরে মেয়ে যখন বেড়াতে যায় তখন মেয়েকে তালাক পাঠায়। তখন বলি, আমার মেয়েকে সংসার করাব না এখানে। এরা বোনরা মিলে গন্ডগোল করে, কিন্তু আমার জামাইয়ের একই কথা—আমি নেব, সংসার করব। আমার জামাইয়ের ওপর ভরসা করে মেয়েকে আবারও পাঠাই। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করতেছে। ওরা ৫ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিকে মেরে ফেলছে।”

সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে স্বামী-স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সাবিনা বেগম আরও বলেন, “বিয়ের পর থেকেই ওরা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা, তার স্বামী ভুটি এবং তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে ধরে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস-মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে।”

তিনি আরও বলেন, “জমি যখন আমার জামাইকে দেয়, তখন তার ৫ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি-ভিটাসহ ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেওয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা ৫ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাইকে মেরে ফেলছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাতে নাতি আর বেটির সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিদিনই কথা বলি। মেয়ে আমাকে জানায়—মা, তোমার নাতি পিঠা খাবে। তখন মেয়েকে বলি, বানিয়ে দাও। বলে, মা রাত হয়ে গেছে, কালকে বানাবে। মেয়ের সঙ্গে কথা না বলে ঘুমাই না। প্রতিদিন ওদের সঙ্গে কথা বলি। ডালিমা, শিরিনা, সুফি, সাহানারা আর কমেলা এবং তাদের স্বামীরা মিলে আমার মেয়ের পরিবারকে শেষ করে দিল। আমি এদের সবার ফাঁসি চাই।”

উল্লেখ্য, নিহতরা হলেন—বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে বসতবাড়ি থেকে তাদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, নিহত হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী পপি সুলতানাকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং শিশু দুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে আমরা ইতোমধ্যেই নিহতের বোনসহ পরিবারের সন্দেহভাজন ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর