চুয়াডাঙ্গায় নুর নাহার খাতুন (৪৭) নামে এক ঋণগ্রহীতাকে রাতের অন্ধকারে জীবননগর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যালয়ের বারান্দায় আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বিআরডিবির মাঠকর্মী হিসেবে আবেদা সুলতানা ১১ বছর যাবৎ কর্মরত রয়েছেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ইসলামপুর গ্রামের মতিয়ার হোসেনের স্ত্রী। আবেদা সুলতানা ২০২৪ সালে জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের মৃত ইব্রাহিম হোসেনের স্ত্রী নুরনাহার খাতুনকে তিন লাখ টাকা ঋণ দেন। যার মেয়াদ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ হয়।
কিন্তু অফিস এখনো তার কাছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করার জন্য অফিসে আসেন। কিন্তু মাঠকর্মী আবেদা সুলতানা ঋণগ্রহীতাকে জানান যেহেতু ঋণের মেয়াদ শেষ, তাই এখনই সব টাকা পরিশোধ করতে হবে। এক পর্যায়ে ঋণগ্রহীতা নুরনাহার খাতুন টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিআরডিবি অফিসের বারান্দায় রাতের অন্ধকারে তাকে তালাবদ্ধ করে রেখে বাসায় চলে যান আবেদা সুলতানা। পরবর্তীকালে স্থানীয়রা পুলিশের খবর দিলে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে বিআরডিবির জীবননগর অফিসের মাঠকর্মী আবেদা সুলতানা বলেন, অফিস তার কাছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পায়। কিন্তু সে কিস্তির টাকা পরিশোধ করছে না। এ কারণে অফিস আমার বেতন থেকে টাকা কেটে নিচ্ছে। তাই আমি তাকে আটকে রেখে তার পরিবারের লোকজনের খবর দিই, যাতে তারা টাকার নিশ্চয়তা দিয়ে নুর নাহারকে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ঋণগ্রহীতা নুরনাহার বলেন, আমি অসুস্থ থাকার কারণে কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে তার কাছে আমি তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছি। সে আমাকে সময় না দিয়ে রাতের অন্ধকারে অফিসের বারান্দায় তালাবদ্ধ করে আটকে রাখে একা ফেলে বাড়িতে চলে যায়।
জীবননগর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা তারিক জামাল বলেন, নুর নাহার তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। মেয়াদ শেষ হলেও সে টাকা পরিশোধ করেনি। আজকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে অফিসে আসে। এরপর আমরা তাকে বলি তাদের পরিবারের লোকজন ডেকে এনে টাকার ব্যাপারে মীমাংসা করতে। কিন্তু সে পরিবারের লোকজনকে না ডেকে পুনরায় সময় চায়। এজন্য আমরা তাকে রেখে দিয়েছি। কিন্তু তালাবদ্ধ অবস্থায় অন্ধকারে আছে এটা আমার জানা ছিল না।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।