অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ না করে ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-ভ্যালি.কম লিমিটেডের মালিক মো. রাসেল (৪৩) ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (৪০) বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. রাসেল, শামীমা নাসরিন এবং অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে ঢাকার কাফরুল থানাধীন ৩০৩/ডি, পূর্ব কাজিপাড়া, মিরপুরে ই-ভ্যালি.কম লিমিটেড নামে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তারা অসংখ্য গ্রাহকের কাছ থেকে পণ্য বিক্রি ও ডেলিভারির জন্য অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ না করে বারবার নতুন ডেলিভারির তারিখ দিয়ে আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। এভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে তা আত্মসাৎ করা হয়।
একইসঙ্গে, বিভিন্ন মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের পণ্য ক্রয় করেও মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, বিভিন্ন সম্পদ অর্জন এবং স্বামী-স্ত্রী মিলে বিদেশ ভ্রমণসহ ভোগ-বিলাসিতায় ব্যয় করেছেন।
সিআইডি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজার হাজার গ্রাহক ও মার্চেন্ট প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ডিএমপির কাফরুল থানায় মামলা নং-১১, তারিখ ২৯/০৩/২০২৬ ইং রুজু করা হয়েছে। মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪(২) ও ৪(৪) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন: ঢাকা সাভারের বনগাঁওয়ের কান্দি বলিয়ারপুর এলাকার আলে আহম্মদ ও জাহানারা বেগম দম্পত্তির ছেলে মো. রাসেল (৪৩) ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন (৪০)।
সিআইডি জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের হদিস উদঘাটন, অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ এবং জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।