1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

ইভিএম নিয়ে দুদকের জালে তারিক সিদ্দিকী, সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ও সচিব হেলালউদ্দিনসহ অন্যান্যরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২২৯ বার পঠিত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেড় লক্ষাধিক ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা হয়েছে প্রচলিত দামের ১০ গুণেরও বেশি টাকায়। যা তিন হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ইভিএম কেনার ক্ষেত্রে তিন হাজার ১৭২ কোটি টাকা রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়। এছাড়াও বাড়তি দামে টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি দেড় লাখ ইভিএম ক্রয় এবং আর্থিক বিধিবিধান লঙ্ঘন করে অর্থ ব্যয়সহ নানা ফাঁকফোকরের সুযোগে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই পেক্ষতে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাসহ সংশ্লিষ্ট কুশীলবদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খোঁজে মাঠে নেমেছে এবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের টিম গঠন করার পর ইভিএম ক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে- সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা ও অন্যান্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও সরকারি আর্থিক বিধি বিধান লংঘনপূর্বক পরীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণের পর টেন্ডার ছাড়াই বাজার মূল্যের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দামে দেড় লাখ নিম্নমানের ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয় করে সরকারি প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করেছেন।

নিম্নমানের ইভিএম কেনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জানুয়ারি অভিযান পরিচালনা করেছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানে ইসির কেনা সেই ইভিএম মেশিনে ত্রুটি ধরা পড়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক নুর আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ইসি ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নুর আলম সিদ্দিকী বলেন, ২০১৮ সালে ইসি দেড় লাখ ইভিএম মেশিন ক্রয় করে। এসব মেশিনের মধ্যে ১ লাখ ৫০০ মেশিন ব্যবহারের অনুপযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানকালে ইভিএমগুলো ইসির তিন জায়গায় সংরক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে- ইসি, বিএমটিএফ (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড) ও ইসির ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়। মেশিনগুলো থেকে কিছু র‌্যানডমলি যাচাই করে দেখা যায় প্রতি তিনটি মেশিনের একটি ত্রুটিপূর্ণ। ইসিতে ৬১৮টি ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া বিএমটিএফ ৮৬ হাজার এবং ইসির ১০টি আঞ্চলিক অফিস ৬২ হাজার ইভিএম সংরক্ষণ করছে। অভিযানকালে নিম্নমানের মেশিন ক্রয় করার ক্ষেত্রে কিছু রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়। অভিযান শেষে এনফোর্সমেন্ট টিমও অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।

দুদকের অভিযোগে যেসব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছে- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সে সময়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানুজ্জামান মুহাম্মদ সালেহ উদ্দিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

উল্লেখ যে, সংসদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী খরচ ও প্রশিক্ষণ ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাগজের ব্যালটের তুলনায় ইভিএমে ভোটগ্রহণের ফলে সংসদ নির্বাচনে ২৯ শতাংশ, পৌরসভা নির্বাচনে ৭৫ শতাংশ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫১ শতাংশ বেশি ব্যয় হয়েছে। তড়িঘড়ি করে গ্রহণ করা এ প্রকল্পে ইভিএম সংরক্ষণ, পরিবহন ও মেরামত খাতে কোনো ব্যয় ধরা হয়নি। যার কারণে এটা এখন ইসির গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। দেড় লাখ ইভিএমের মধ্যে বর্তমানে ৪০ হাজারের মতো ভালো রয়েছে। বাকি ইভিএমগুলো নষ্ট। যদিও হাবিবুল আউয়ালের কমিশন এসব নষ্ট ইভিএম মেরামত করার উদ্যোগ নিয়ে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিল। অর্থ বিভাগ ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেগুলো আর মেরামত করা যায়নি।

২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পায় ইভিএম প্রকল্পটি। প্রকল্প গ্রহণের সময় পরিকল্পনা কমিশন থেকে ইভিএমের ওয়ারেন্টি ১০ বছর নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে সিএজি অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী ইভিএমের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয় মাত্র এক বছর। এ কারণে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ইভিএম মেরামত যোগ্য হলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেই সুবিধা পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বলেন, বিষয়টি বেশ আগের, পুরোপুরি মনে নেই। তদন্তকালে যদি আমার কাছে আসে তখন বলা যাবে। এ মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে এটুকু মনে পড়ে শক্তিশালী একটি ট্যাকনিক্যাল কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমে মেশিন ক্রয় করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে কাজ করেছে আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট হয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সম্পৃক্ততা ছিল না, তাই দুর্নীতির প্রশ্ন আসে না। ইভিএমের ওয়ারেন্টি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে বলে জানি। আসলে ওয়ারেন্টির বিষয়টি অনেক কিছুর ওপরে নির্ভর করে। কারণ, ইভিএম স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আবার আনা হয়েছে। আনা-নেওয়ার যাতায়াত সব জায়গায় এক রকম নয়। সে কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুদক তদন্ত করুক, তদন্তে যা আসবে তাই হবে।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, দুদকের অনুসন্ধান আইন ও বিধি অনুসরণ করে চলে। অনুসন্ধান টিম কাজ করছে। তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর