শহিদ জিয়ার উত্তরসূরি হচ্ছেন তারেক রহমান। তার নামটি উচ্চারণ করতে হলে অজু করবেন। আপনাদের মতো নাবালক উপদেষ্টারা-নেতারা এই ধরনের কথা বলে দেশকে বিভক্ত করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি উবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ প্রমুখ।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, গত দুই তিন দিন ধরে কিছু অর্বাচীন কিছু কথাবার্তা বলছে। তারা বলছে- শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাবা হলে ছেলেরাও কি নেতা হবে নাকি? আমি সেসব অর্বাচীন নাবালক বাচ্চাদের বলতে চাই- বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসনের ছেলে। শহিদ জিয়ার উত্তরসূরি হচ্ছেন তারেক রহমান। তার নামটি উচ্চারণ করতে হলে অজু করবেন। আপনাদের মতো নাবালক উপদেষ্টারা-নেতারা এই ধরনের কথা বলে দেশকে বিভক্ত করবেন না। তারেক রহমান বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা। তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়েছেন আড়াই বছর আগে। যদি কোনো সংস্কারের প্রয়োজন হয়, আপনাদের যদি কোনো উপদেশ থাকে তাহলে সংযোজন করবেন। তিনি বলেছেন বিএনপি যদি ২৮০ সিটও পায় বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে না। যারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করব। দেশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নাই যেটা শেখ হাসিনা ধ্বংস করেন নাই। ২৭ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে তার পরিবার লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে। এই টাকা ফেরত আনতে হলে আবার একটি ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। যেমন করে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করেছিলেন। একটি দুর্ভিক্ষের দেশ থেকে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আত্মমর্যাদার দেশে পরিণত করেছিলেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আপনারা এমন কোনো কর্মকাণ্ড করবেন না, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। ১৭ বছর আপনারা অপেক্ষা করেছেন। বাবার জমি বেচে, মায়ের গয়না বেচে পালিয়ে ছিটিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। হঠাৎ করে আমাদের মধ্যে কিছু লোকের যেন কিছু ধন-দৌলত হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে আপনাদেরকে বলতে চাই এমন কোনো কর্ম করবেন না যে কর্মের কারণে জিয়াউর রহমান যে দল গঠন করেছেন, বেগম খালেদা জিয়া যে দলের নেত্রী ছিলেন, তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উনার গায়ে যেন কোনো কাদা না লাগে। এমন কোনো কর্ম করবেন না। যারাই এই কাজটি করবেন তাদের প্রাথমিক সদস্য পদেও থাকার কোনো অধিকার নেই। দেশের বিভিন্ন জেলায় আমি গিয়েছি। সেখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম, আমাদের কিছু নেতা হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ প্রীতিতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের টাকা আছে দলে নিয়ে আসার চেষ্টায় লিপ্ত। যদি কেউ আমাদের দলে আসতে চায় আসুক। তবে ৫ থেকে ৬ বছর পেছনের কাতারে বসে থাকুক। আর যারা আন্দোলন সংগ্রাম করে গত ১৭ বছর ছিল তারাই নেতা হবে। শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত হোক অথবা অর্ধশিক্ষিত হোক, সেই নেতা হবে, অন্য কেউ নেতা হবে না।