কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার লালবাগ ও বাতিসা এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক যান দুটি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামগামী লেইনে রাস্তা পারাপারের সময় কিশোয়ান ফুড ফ্যাক্টরির শ্রমিক মিজানুর রহমান (৩২) অজ্ঞাতনামা একটি দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিজানুর রহমান কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার বরইতলী গ্রামের সামশুল আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি খাদ্য কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে একই দিন সকাল ৭টার দিকে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন বাতিসা সিএনজি পাম্পের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকাগামী লেইনে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা-ল-১১-৩০০০ নম্বরের একটি মোটরসাইকেলে থাকা ফারুক (২৭) নামের এক যুবককে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ি চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত ফারুক চট্টগ্রাম জেলার খুলসি থানার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
মিয়ার বাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ফারুকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরোও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ঘাতক যান দুটি শনাক্তে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।