1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

তপ্ত গ্রীষ্মে বেগুনি মায়া ছড়াচ্ছে জারুল, জয়পুরহাটের সড়ক যেন রঙিন জলছবি

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ৬৩ বার পঠিত

তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুর, চারদিকে রোদের ঝাঁজ, ধুলোমাখা পথ আর ব্যস্ত মানুষের ছোটাছুটি। এর মাঝেই জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়া বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ সড়কের বটতলা এলাকায় চোখে পড়ে এক অন্যরকম সৌন্দর্য। রাস্তার ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা জারুল গাছগুলো যেন হঠাৎ করেই বেগুনি-গোলাপি রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে পুরো পথঘাট। দূর থেকে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে কেউ যেন তুলির আচড়ে এঁকে দিয়েছে রঙিন জলছবি।

বাংলার ছয় ঋতুর দেশে জারুল ফুল গ্রীষ্মের এক অনন্য অনুষঙ্গ। বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa—দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে যার বিস্তার। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ফিলিপাইনের আবহাওয়ায় এ গাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। দেশে এটি জারুল নামেই পরিচিত হলেও অনেক স্থানে একে “রানি ফুলের গাছ” বলেও ডাকা হয়।

জারুলের ফুল সাধারণত বৈশাখ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত ফুটে থাকে। গাছভর্তি বেগুনি, হালকা গোলাপি কিংবা লাইলাক রঙের ফুল প্রকৃতিকে এনে দেয় এক মায়াবী আবহ। কবিদের ভাষায়, “রোদের ভিতরেও ছায়া হয়ে থাকা এক টুকরো নীরব সৌন্দর্য” যেন এই জারুল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও সড়কটির ধারে এমন রঙিন আবহ খুব বেশি চোখে পড়ত না। এখন গাছগুলো বড় হওয়ায় পুরো এলাকা যেন ফুলের ছাউনিতে ঢেকে গেছে। প্রতিদিন পথচারীরা একটু থেমে তাকান, কেউ ছবি তোলেন, কেউবা ছায়ায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন।

প্রকৃতিবিদেরা বলছেন, সৌন্দর্যের পাশাপাশি জারুল পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত উপকারী একটি বৃক্ষ। এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল এবং ঘন পাতা ও শাখা-প্রশাখা বাতাসকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। শহর ও গ্রামীণ সড়কের পাশে জারুল লাগালে তাপমাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে। গাছটি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।

এ ছাড়া জারুলের ফুল মৌমাছি ও বিভিন্ন পরাগবাহী পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, জারুল গাছের পাতা ও বাকলে ভেষজ গুণও রয়েছে। কিছু দেশে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এর পাতার নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, জারুল শুধু একটি ফুল নয়; এটি বাংলার আবেগ, গ্রামবাংলার নীরব সৌন্দর্যের প্রতীক। যেমন বর্ষার আগে কালো মেঘ দেখে কৃষকের মনে আশার সঞ্চার হয়, তেমনি গ্রীষ্মের প্রখর রোদে ফুটে থাকা জারুল ফুল মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—কঠিন সময়ের মাঝেও সৌন্দর্য বেঁচে থাকে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর