জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ ৫৫ বছরে সাংবাদিকরা মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, প্রেস কাউন্সিলকে আধুনিকায়ন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়মিতকরণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের ৬৩ জেলার সাংবাদিকদের সমস্যাও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ জোট এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ও এডিটরস ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তাক আহমেদ খান, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের মহাসচিব কবি অশোক ধর, আরজেএফের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সুজন মাহমুদ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান বীথি মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সভাপতি আবুল হোসেন এবং জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মামুন।
এছাড়াও কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশে তথ্য মন্ত্রীর সাংবাদিক নীতিমালা ও তালিকা প্রণয়ন উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।
আয়োজকরা জানান, ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলে দেশের গণমাধ্যম খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।