মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে ভোক্তা—সকলকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুর সদরের মোলহেডে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের গর্ব ও ঐতিহ্যের অংশ। এক সময় দেশে প্রায় ২০ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও তা কমে প্রায় ২ লাখ টনে নেমে এসেছিল। তবে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে ইলিশ উৎপাদন আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে দেশে ইলিশ উৎপাদন ২০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর দেশের ইলিশ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ পাওয়া যায়। কিন্তু এক সময়কার প্রাচুর্যের তুলনায় বর্তমানে ইলিশের সংখ্যা কমে গেছে, যার অন্যতম প্রধান কারণ জাটকা নিধন।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, একটি ডিমভর্তি ইলিশ ধরা মানে হাজার হাজার ভবিষ্যৎ মাছ ধ্বংস করা। তাই ইলিশ সংরক্ষণে সবার সচেতনতা জরুরি। তিনি জানান, সরকার জেলেদের জন্য চাল, তেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা। তবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের দায়িত্বশীল আচরণই ইলিশ সংরক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলেদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অন্তত দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ছোট ইলিশ বড় হয়ে অধিক ওজনের হবে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি লাভজনক হবে।
তিনি বলেন, ইলিশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড। “ইলিশ মানেই বাংলাদেশ”—এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদপুর অঞ্চলের চর ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।
এ সময় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ, স্থানীয় মৎস্যজীবী, জেলেসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।