জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বোরো ধানে ব্লাস্ট ও পাতা পোড়া রোগের ব্যাপক সংক্রমণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। কয়েক দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে রোগটি। কোথাও ধানের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও শীষ চিটা হয়ে পড়ছে। এতে চলতি মৌসুমে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
উপজেলার বড়তারা, মামুদপুর, বড়াইল, আলমপুর, তুলশীগঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে ধানের পাতায় ছোট ছোট বাদামি দাগ দেখা দেয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে ধানের শীষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, রোগ ছড়িয়ে পড়লেও মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের তেমন কার্যকর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তদারকির অভাবে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বড়তারা এলাকার কৃষক আবদুস মমিন বলেন, “অনেক টাকা খরচ করে ধান চাষ করেছি। এখন জমির অবস্থা খুব খারাপ। কৃষি অফিসে জানিয়েছি, কিন্তু কেউ মাঠে এসে দেখেনি।”
রোয়াইড় গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ৮ বিঘা জমিতে এ রোগ ধরেছে। শুরুতে কয়েকটা জমিতে ছিল, এখন অনেক জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। কী ওষুধ দেব, কীভাবে বাঁচাব—সঠিক পরামর্শ পাচ্ছি না।”
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অনিয়মিত আবহাওয়া, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ভ্যাপসা গরমের কারণে রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে কাটারী, ব্রি-১৬, ব্রি-১৭ ও ব্রি-৯০ জাতের ধানে আক্রান্তের হার বেশি।
কৃষকেরা আরও জানান, অনেকেই না বুঝে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করছেন। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাইফুল ইসলাম বলেন, “আক্রান্ত জমি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তবে কৃষকদের দাবি, শুধু পরামর্শ নয়, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। তা না হলে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।