কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর ফুটবল মাঠে ওয়াহেদপুর যুব সমাজের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) রাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নানা আয়োজন, অতিথিদের উপস্থিতি এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে উপভোগ্য ও স্মরণীয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী রবিউল্লাহ মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ইফতেখার আহমেদ মাসুদ। উদ্বোধক ছিলেন ৪নং সুবিল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী নুরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪নং সুবিল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার (টুটুল) এবং মালদ্বীপ প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম। বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক ফারুক আহমেদ মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অতিথিরা আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংস্কৃতি চর্চা সমাজকে সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।
দেবিদ্বার উপজেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ওয়াহেদপুর মাঠ ও টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি বিল্লাল মিশুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ ময়নাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী হাফেজ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আউয়াল।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কাওয়ালী পরিবেশনা, নাটক ও কৌতুক উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা। শিল্পীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ওয়াহেদপুর একটি সম্ভাবনাময় ও আদর্শ গ্রাম। এ গ্রামের মানুষ বাড়ির আঙিনায় নিরাপদ সবজি ও ফল চাষের মাধ্যমে পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। লাল শাক, পুঁইশাক, ডাঁটা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি ঔষধি গাছ, আম, লিচু ও লেবুর চারা উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ওয়াহেদপুর সমাজকল্যাণ পরিষদ, নবজাগরণ, মানবকল্যাণ পরিষদ ও টিম ওয়াহেদপুরসহ কয়েকটি সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এলাকায় স্কুল, মাদরাসা ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামো থাকায় সবার সহযোগিতা পেলে ওয়াহেদপুরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।