পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় দিনেও নওগাঁর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশেষ করে বেগুন, টমেটো, গাজর, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন সবজি ও মুরগির দাম বেড়ে গেছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেলের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নওগাঁ পৌর মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা দিলীপ কুমার জানান, খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ কিছুটা কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।
খুচরা সবজি বাজারে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে বেগুন ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকা হয়েছে। লেবুর হালি ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা হয়েছে। করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। রসুন কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকা হয়েছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়েছে।
খেজুরের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা বেড়ে ৩০০-৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের খেজুর ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৬০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজার করতে আসা গৃহিণী আফরোজা সুলতানা বলেন, “রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসে দেখি প্রায় সবকিছুর দাম বেশি। বাধ্য হয়ে কম পরিমাণে কিনতে হচ্ছে।”
আরেক ক্রেতা আকরাম হোসেন বলেন, “রমজানের শুরুতেই যদি এভাবে দাম বাড়ে, তাহলে সামনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। আয় তো আর বাড়ছে না।”
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখান। বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পৌর কাঁচা বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলী বলেন, “এই সময় কিছু পণ্যের মৌসুম শেষ হয়, আবার নতুন পণ্য আসে। তাই কিছু জিনিসের দাম বাড়ে। তবে বাজারে কোনো সংকট নেই। সামনে দাম বাড়বে কিনা, তা আমদানির ওপর নির্ভর করছে।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ জানান, বাজার সহনীয় রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।