রাজনৈতিক অঙ্গনে এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম রাষ্ট্রপতি হিসেবে। অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে মিডিয়াপাড়ায় যে জল্পনা ছিল তা এখন আরও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে। কয়েক দিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ড. মোহাম্মদ ইউনূস। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতিমধ্যেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নজরুল ইসলাম খান বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
এখন রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য দুটি নাম রইল:
ড. মোহাম্মদ ইউনূস – নোবেলজয়ী এই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে সমালোচনার ঝড়ের সম্ভাবনা বেশি। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন – যিনি এখনও মন্ত্রিসভায় নেই, তাই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা এখন তার পক্ষে তুলনামূলকভাবে জোরালো।
সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভারসাম্য বিবেচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে।
ড. মোশাররফ হোসেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে একাডেমিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছেন। শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ ছিল আদর্শনিষ্ঠ ও পরিকল্পিত; রাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
১৯৮০–এর দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন প্রমাণিত, তেমনি তিনবার মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতাও সুপ্রতিষ্ঠিত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ত ছিলেন।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী থাকাকালে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)–এর ১৫৬টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন—যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ও তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার এক উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে তিনি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সংলাপ ও সাংগঠনিক ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
ড. মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিমিত ভাষা ব্যবহার, মার্জিত আচরণ, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান, সংকটকালে ধৈর্যশীল নেতৃত্ব, দলীয় ঐক্য রক্ষার সক্ষমতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার। একই সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধ লালন ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে তাঁর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তাঁকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর নাম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় আসছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে উচ্চারিত হচ্ছে, “এমপি হলে মন্ত্রী পাই, এবার ইনশাল্লাহ প্রেসিডেন্ট পাব”—যা নতুন এক প্রত্যাশার ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সাংবিধানিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলে জাতীয় ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন প্রয়োজন পরিমিত, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব—যিনি দলীয় সীমারেখা অতিক্রম করে রাষ্ট্রের প্রতীক হয়ে উঠতে সক্ষম। সেই আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম ক্রমেই উচ্চারিত হচ্ছে আরও জোরালোভাবে। সময়ই বলবে, অভিজ্ঞতার দীর্ঘ পথচলা তাঁকে কোন নতুন অধ্যায়ের দিকে নিয়ে যায়।