দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা বিজয়ী হওয়ায় সরকার গঠনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে দলটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামো ও সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকা নিয়েও চলছে পর্যালোচনা। দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতা ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। নজরুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনো মন্ত্রী হননি। কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার—একসময় কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের অভ্যন্তরে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনার পেছনে রয়েছে তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার সক্ষমতা।
অন্যদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাকে রাষ্ট্রপতি করার আলোচনা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এ ছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। দলীয় অভ্যন্তরে প্রবীণ নেতৃত্বের পাশাপাশি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকেও রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার কথা শোনা যাচ্ছে।
শিক্ষাঙ্গন থেকেও দু’টি নাম আলোচনায় এসেছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই জানানো হবে। এরপর শুরু হবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।