বাংলাদেশে আর পঁচা রাজনীতির বন্দোবস্ত চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পঁচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে এবং বৈষম্যহীন, শান্তি ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশ্বরোড সংলগ্ন মডেল মসজিদ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভাটি আয়োজন করা হয় কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের পক্ষে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ওপর জুলুম চালানো হয়েছে। আগের সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি এখনো বহাল রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, লুটপাট করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা আর মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজ ও মামলাবাজদের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দেশে গণজোয়ার শুরু হওয়ায় একটি মহল দিশেহারা হয়ে উঠেছে। মায়েদের নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার। সবাই মিলেমিশে ফুলের বাগানের মতো দেশ গড়বে। যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন, আর সেই সাহস জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে। অতীতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সাজানো বিচারের মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালানো হলেও দলটি মাথানত করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে দেশে সর্বত্র চাঁদাবাজি চলে সে দেশ কখনো সভ্য হতে পারে না। চাঁদাবাজি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে খাদ্য ভাগাভাগি করে খাওয়া হবে, কিন্তু অন্যায় সহ্য করা হবে না।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গর্ভবতী মা ও পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বক্তব্য শেষে তিনি কুমিল্লা-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের হাতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।