নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা মূল্যের একটি দুষ্প্রাপ্য ও প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ খঞ্জনপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ২৫১ এমপি থেকে আনুমানিক ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খঞ্জনপুর ঈদগাহ মাদ্রাসা মোড় এলাকায় আম বাগানের পাশে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সিভিল সোর্সের মাধ্যমে কষ্টি পাথরের একটি মূর্তি চোরাকারবারিরা বাজারে বিক্রি করবে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মোঃ হাচানুর রহমান এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ টহলদল ক্রেতা সেজে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মূর্তিটি ফেলে পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত মূর্তিটির ওজন ২২ কেজি ৩০০ গ্রাম। অধিনায়ক, পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর নির্দেশনায় অভিজ্ঞ স্বর্ণকার দ্বারা নাইট্রিক এসিড ও স্বর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমে মূর্তিটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় এটি অত্যন্ত উচ্চমানের কষ্টি পাথরের তৈরি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পাশাপাশি জুয়েলারী সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকারদের মতে, মূর্তিটির বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকারও বেশি।
পরবর্তীতে ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, কাস্টোডিয়ানের কার্যালয়, পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, নওগাঁ কর্তৃপক্ষ মূর্তিটি পরিদর্শন করে। তাদের প্রাথমিক মতামতে জানা যায়, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি ১১ থেকে ১২ শতকের মধ্যে নির্মিত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য প্রত্নসম্পদ।
এ বিষয়ে পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক, দুষ্প্রাপ্য ও অমূল্য সম্পত্তির অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সকল ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।