নাগরিক সেবা আরও সহজ, সমন্বিত ও জনবান্ধব করতে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা। শুক্রবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নাগরিক সেবা বাংলাদেশ সরকারের একটি সময়োপযোগী ও সংস্কারমূলক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সরকারি সেবায় নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সেবাগুলোকে একীভূত করে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তারাই নাগরিক সেবা কেন্দ্রের মুখ্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন এবং তারাই সরকারের সেবাদানের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিচ্ছবি হবেন। সেবাগ্রহীতার আস্থা, সন্তুষ্টি ও অভিজ্ঞতাই হবে এই উদ্যোগের সফলতার প্রধান মানদণ্ড বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোঃ নবীর উদ্দীন এবং এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, একীভূত নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে বর্তমানে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো থেকে এক জায়গাতেই ৪৯৩টি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে, সময় ও ব্যয় উভয়ই কমেছে। তিনি বলেন, সঠিক ব্র্যান্ডিং ও দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রকে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। বাস্তবভিত্তিক, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবাই নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রধান ভিত্তি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান বলেন, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে এই উদ্যোগ দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জনগণকে জানাতে হবে—কোন কোন সেবা পাওয়া যাচ্ছে, কীভাবে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং এসব সেবা তাদের জীবনকে কীভাবে সহজ করবে। সচেতনতা বাড়াতে পারলেই এই উদ্যোগ আরও টেকসই হবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার মোঃ সালমান ফার্সি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত শতাধিক উদ্যোক্তা এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। উদ্যোক্তারা জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে তাঁরা ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করেছেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।