কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দলে দেখা দিয়েছে তীব্র উত্তেজনা। এবার প্রবাস থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমড়াতলী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার কামাল হোসেন। ভিডিওতে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন— ‘হাজী ইয়াছিন ছাড়া অন্য কেউ ধানের শীষ পেলে কুমিল্লায় বিএনপি থাকবে না।’
মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে সাবেক মেম্বার কামাল হোসেন বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর! কুমিল্লাতে যদি হাজী ইয়াছিন ছাড়া অন্য কেউ ধানের শীষ নিয়ে আসে, পিঠের চামড়া রাখব না। ইয়াছিন ভাইকে ভালোবেসে পরিবার ছেড়েছি, মেম্বার পদ ছেড়েছি। মনে রাখবেন, কুমিল্লার গণমানুষের নেতা যদি নমিনেশন না পায়, তাহলে কুমিল্লার বিএনপি আর বিএনপি থাকবে না।”
প্রায় চার মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, “হাজী ইয়াছিন যদি নমিনেশন না পায়, কুমিল্লার মাটি পর্যন্ত রাখব না। প্রয়োজনে আমরা বিএনপি ছাইড়া জামায়াতে যোগ দিমু। বিএনপির জন্য দেশ ছাড়ছি, আবার আওয়ামী লীগের জন্য দেশে নামব।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “১৭ বছর ধরে কুমিল্লার মাটিতে মামলার পর মামলা খাইছি, হামলার শিকার হয়েছি ইয়াছিন ভাইয়ের সঙ্গে রাজনীতি করতে গিয়ে। এখন যদি অন্য কাউরে মনোনয়ন দেন, মনে রাখেন—এই মাটিতে তার জায়গা হবে না।”
ভিডিওর শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও আবেদন জানিয়ে কামাল বলেন, “যদি কুমিল্লায় ইয়াছিন ভাই নমিনেশন না পায়, তাহলে বিএনপির বিরুদ্ধেও লড়াই করব।”
উল্লেখ্য যে, কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। তার নাম ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের অপর উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এলাকায় সংগঠনের হাল ধরে রেখেছিলেন।
মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। এর আগে মনিরুল হক চৌধুরীও বলেছিলেন—“দল যদি মনোনয়ন না দেয়, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব।”
এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কুমিল্লাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকি দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তবে ইয়াছিনের সমর্থকদের দাবি, দলীয় ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত ছিল।
কুমিল্লা জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, মনোনয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, দলের নির্দেশের বাইরে কেউ যেন উসকানিমূলক বক্তব্য না দেন—সে বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে বিভক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।