জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের আমানীপাড়া গ্রামের কৃষক মো. দুদু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী মোছা. জড়িনা বেগম এখন এলাকার অনুকরণীয় দম্পতি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় “অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্প”-এর সহায়তায় তারা কমিউনিটি বেইজড পদ্ধতিতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে হয়েছেন স্বাবলম্বী।
এই উদ্যোগ বদলে দিয়েছে তাদের জীবন, জমির মাটি ও গ্রামের কৃষি চর্চাকে করেছে পরিবেশবান্ধব।
দুদু মিয়া জানান, আগে জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করায় খরচ ছিল বেশি, ফলনও আশানুরূপ আসত না। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করার পর এখন নিজের তৈরি সার ব্যবহার করছেন। এতে ফলন বেড়েছে, খরচ কমেছে, আর বাজারে বিক্রি করেও ভালো আয় হচ্ছে।
জড়িনা বেগম বলেন, “প্রথমে ভয় লাগত—কেঁচো দিয়ে সার তৈরি করা কঠিন হবে। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে শুরু করি। এখন বাড়ির পাশে তিনটি বেডে নিয়মিত সার তৈরি করি। এতে বাড়ির জৈব বর্জ্য কাজে লাগছে, প্রতিবেশীরাও কিনে নিচ্ছেন।”
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “কমিউনিটি বেইজড ভার্মি কম্পোস্ট প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ও টেকসই। দুদু মিয়া ও জড়িনা বেগম এর সফল উদাহরণ। তাদের দেখে এলাকার কৃষকেরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমছে, মাটির উর্বরতা বাড়ছে এবং উৎপাদন খরচও কমছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পুরো উপজেলায় জৈব সার ব্যবহারের প্রচলন বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ ও মাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।”
এখন দুদু মিয়া দম্পতির সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের গ্রামগুলোতে। অনেক কৃষক তাদের কাছ থেকে শিখছেন কীভাবে কম খরচে এই পদ্ধতিতে সফল হওয়া যায়।
পরিবেশবান্ধব কৃষি ও বাড়তি আয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছেন এই দম্পতি। তাদের মতো আরও অনেক কৃষক এগিয়ে এলে ক্ষেতলাল উপজেলাই হতে পারে টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের এক মডেল উপজেলা।