আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পরও কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৩৩ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। ৫ আগষ্টের পর সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের পদে বহাল থাকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশ, ছাত্র সমন্বয়কদের কিছু সুবিধাবাদী নেতা ও স্থানীয় কিছু প্রশাসন তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। অভিযোগ রয়েছে—এই সুবিধা বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় তাদের নিরাপদে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
এ সুযোগে আওয়ামী সমর্থিত এসব চেয়ারম্যানরা গোপনে তাদের রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করছেন বলেও জানা গেছে।
বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট, বরুড়া ও সদর দক্ষিণ উপজেলার চেয়ারম্যানরা এর মধ্যে রয়েছেন।
সরেজমিন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়—
লালমাই উপজেলার ৮ চেয়ারম্যানের মধ্যে রয়েছেন বাগমারা উত্তর ইউপির আবুল কাসেম, দক্ষিণের লোকমান, বেলঘর উত্তরের আব্দুল মালেক, দক্ষিণের গাজী, ভোলাইন উত্তরের এমরান কবির, দক্ষিণের মুজিবুর রহমান, পেরুল উত্তরের আনোয়ার হোসেন দুলাল ও পেরুল দক্ষিণের খন্দকার সাইফুদ্দিন।
নাঙ্গলকোটের ৪ চেয়ারম্যান হচ্ছেন সাতবাড়িয়ার শেখ কবির টুটুল, বক্সগঞ্জের আব্দুর রশিদ, রায়কোট উত্তরের মাস্টার রফিকুল ইসলাম ও বাঙ্গড্ডার সাইফুল ইসলাম।
বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার ১৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে মোকাম ইউনিয়নের সাহেব আলী, ময়নামতির লালন হায়দার, রাজাপুরের আবুল কাসেম, পীরযাত্রাপুরের হাজী আবু তাহের, বাকশীমুলের আব্দুল করিম, ষোলনলের হাজী বিল্লালসহ ব্রাহ্মণপাড়ার জহিরুল হক, সাইফুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন ও আতিকুর রহমানদের নাম পাওয়া গেছে।
বরুড়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। তারা হলেন—গালিমপুরের বাচ্চু মিয়া, ভবানীপুরের খলিল, আদ্রার লিমন, ভাউকসারের মাসুদ, চিতড্ডার জাকারিয়া, পয়েলগাছার মইন উদ্দিন ও খোশবাস দক্ষিণের আব্দুর রব।
এ ছাড়া সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহাগও বহাল আছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পতনের পর লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সদর উপজেলার অধিকাংশ চেয়ারম্যান জনরোষের ভয়ে পালিয়ে যান। তবে দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যানরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং গোপনে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।