1. admin@timesnews24.live : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে ‘পাখি কলোনি’, প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের এক অভিনব উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার (জয়পুরহাট)
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮৩ বার পঠিত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে গড়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত—‘পাখি কলোনি’। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাখিদের জন্য গাছে গাছে ঝুলছে মাটির হাড়ি, আর শানবাঁধানো পুকুরে বসানো হয়েছে আড়ানী। উদ্দেশ্য একটাই—পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের নিশ্চয়তা তৈরি করা।
‎
‎শরতের নরম আলো ও হিমেল হাওয়ায় এখন উপজেলা চত্বরে ভেসে আসে পাখির কূজন। দীর্ঘদিন পর যেন প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে নিজের ছন্দ, প্রাণ ফিরে পেয়েছে পরিবেশের হৃদস্পন্দন।
‎
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, “পাখি প্রকৃতির প্রাণ, আর প্রকৃতি মানেই জীবন। আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষ, গাছ ও পাখি একসঙ্গে টিকে থাকবে। এটি শুধু পাখিদের আশ্রয় নয়, প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীক।”
‎
‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “পাখি কৃষির নীরব সহযোগী। তারা মাঠের ক্ষতিকর পোকার শত্রু। এই উদ্যোগ পরিবেশ ও কৃষির ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
‎
‎উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র মনে করেন, “পাখি পরিবেশের অদৃশ্য রক্ষাকবচ। ক্ষেতলালের এই উদ্যোগ প্রকৃতি সংরক্ষণে এক নতুন অধ্যায়।”
‎
‎স্থানীয় পরিবেশ কর্মী এম রাসেল আহমেদ বলেন, “যেখানে মানুষ পাখি তাড়ায়, সেখানে তাদের জন্য ঘর বানানো হচ্ছে—এটি সহানুভূতির প্রতীক। পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলেই মানুষ টিকে থাকবে।”
‎
‎এখন ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে মাটির হাড়িতে বাসা বাঁধছে শালিক, দোয়েল, বাবুই, টুনটুনি সহ নানা দেশীয় পাখি। পুকুরের নিস্তরঙ্গ জলে ভাসছে আড়ানী, ঝিলমিল করছে রোদে মাছের খেলা।
‎
‎পুকুরের ধারে লেখা রয়েছে এক অনন্য কবিতা—
‎
‎“এসো হে পাখি, খাও রে মাছ,
‎পুকুর জলে দিচ্ছি আজ।
‎রোদে ঝিলমিল জলের হাসি,
‎নেচে চলে রুপালি রাশি।”
‎
‎ক্ষেতলাল উপজেলা প্রশাসনের এই ‘পাখি কলোনি’ এখন কেবল একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নয়—এটি প্রকৃতি, মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের সহাবস্থানের জীবন্ত দলিল। পাখির কূজনেই যেন ফিরে আসছে প্রকৃতির হারানো হাসি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর