নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় জনসেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে জমি সংক্রান্ত কাজসহ নানা দাপ্তরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। জানা গেছে, গত বছরের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন এসিল্যান্ড সিনথিয়া হোসেন বদলি হওয়ার পর থেকে এ পদটি ফাঁকা রয়েছে। এরপর চলতি বছরের ১ জুন ইউএনও মোঃকামাল হোসেন অন্যত্র বদলি হলে সেটিও শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে রাণীনগর উপজেলার ইউএনও মোঃ রাকিবুল হাসান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আত্রাইয়ের ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ এক ব্যক্তিই যখন দুটি উপজেলার ইউএনওর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসিল্যান্ড এর দায়িত্ব পালন করেন তখন সেখানের অবস্থা কি হতে পারে সেটি নিশ্চয়ই বুঝতে আর হয়তো বেগ পেতে হবে না যে কারোর!
গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি পদ শূন্য থাকায় উপজেলা প্রশাসনের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত খারিজ-নামজারি, জমি বিক্রি বা দলিল প্রস্তুতের কাজে দেখা দিয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে গিয়েও অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। পাঁচুপুর গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের গ্রামের গোরস্থানের জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অফিসে ঘুরছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এসিল্যান্ড না থাকায় আমরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।” একই অভিযোগ করেন ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের মোঃ জামাল শেখ। তিনি বলেন, “জমির খারিজ বা নামজারি করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। জরুরিভাবে জমি বিক্রির প্রয়োজন থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে আত্রাইয়ের দায়িত্বে থাকা রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃরাকিবুল হাসান বলেন, “দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন কঠিন হলেও আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। বর্তমানে কিছু এসিল্যান্ডের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আত্রাইয়ে এসিল্যান্ড পদে নিয়োগ দেবেন।