ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশে বিভিন্ন হোটেলে মাদকের ক্রেতা সেজে ব্যতিক্রমী অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২৮ জুন) রাত ৯টা থেকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামাল হোসেন এর নেতৃত্বে ও সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা অংশের মহাসড়কের পাশ্ববর্তী বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালানো হয় । এতে ৯১ পুরিয়া গাঁজা, ৩৮ পিস ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করে তা সেনাবাহিনীর উপস্থিতে ধ্বংস করা হয়। 
আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে অন্তত ৮ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ৪ জনের সবাইকে মোবাইল কোটের আওতায় এনে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ডসহ উভয় দণ্ডে দন্ডিত করা হয়। আর বাকিরা নাবালক শিশু হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে টাইমস নিউজকে এক ক্ষুদে বার্তায় নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামাল হোসেন। 
তিনি জানান- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ভাতের আড়ালে বিভিন্ন হোটেলে মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগ উঠে। তারই পেক্ষিতে শনিবার (২৮ জুন) রাত ৯টা থেকে রবিবার (২৯ জুন) মধ্যরাত ২টা পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা অংশের মহাসড়কের পাশ্ববর্তী বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসারের ৪টি বাইক ও ভাড়া করা একটি ট্রাক নিয়ে মোট ৫টি দলে (প্রতি দলে ২/৩ জন) ভাগ হয়ে মাদকদ্রব্যের ক্রেতা সেজে এক ব্যতিক্রমী অভিযান চালানো হয়। এসময় কয়েকটি হোটেল থেকে আভিযানিক কয়েকটি টিম টাকার বিনিময়ে মাদকদ্রব্য ক্রয় করতে সক্ষম হন। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাদের সাজা দেওয়া হয়। 
স্থানীয় সচেতন মহল জানান- মহাসড়কের দুই পাশে ভাতের হোটেলের আড়ালে অনেক হোটেলে মাদক কেনা বেচার খবর আমরা শুনে আসতেছি। উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযানকে আমরা সত্যিই স্বাগত জানায় এবং ধন্যবাদ জানায়। তবে স্থানীয় কয়েকজন সুযোগ সন্ধানী ও ধান্দাবাজ ব্যাক্তি নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এসব হোটেল থেকে প্রতি মাসে মাসুয়ারা নিয়ে থাকেন। মূলত তাদের ছত্রছায়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব হোটেলগুলোতে অবৈধ মাদক কেনাবেচার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামাল হোসেন টাইমস নিউজকে জানান, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধই পারবে পুরো সমাজকে এই মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি দিতে। মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের জিরো টলারেন্স। জনস্বার্থে এমন অভিযান চলমান থাকবে।